সন্ধ্যা নদীর ভাসমান ধান-চালের হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কম

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০৮

বদল হচ্ছে পেশা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা বলেন, বরিশালের বানারীপাড়ার ধান-চালের হাট একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার ছিল। বানারীপাড়ার প্রসিদ্ধ মোকাম ধান-চালের হাট অব্যবস্থাপনার কারণে হয়তো বিলুপ্তির পথে

এস মিজানুল ইসলাম, বানারীপাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা

হারিয়ে যাচ্ছে বানারীপাড়ার ভাসমান ধান-চালের হাট। এক সময় সন্ধ্যা নদীতে ভাসমান ধান-চালের হাট ব্যাপক বিস্তৃতি নিয়ে জমে উঠত। এই হাট এত বড় ছিল যে, ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা তীর থেকে নদীর মধ্যখানে এক নৌকা থেকে অন্য নৌকা করে যাওয়া-আসা করতে পারতেন। নদীর পূর্ব পাড়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাল বেচাকেনায় ব্যস্ত থাকতেন ব্যবসায়ীরা। আর দুপুরের পর সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে নাজিরপুর বরাবর নদীতে ভাসমান নৌকায় বসত ধান বিক্রির হাট। বানারীপাড়ায় এখন আগের মতো ধান নিয়ে নৌকার সারি আর কার্গো বা লঞ্চে চাল বোঝাই করতে দেখা যায় না। দিন-রাতে বাড়ির ঘরে রাইস মিলের শব্দ আর শোনা যায় না। ধান-চালের ব্যবসায় কুটিয়ালদের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। বানারীপাড়া বন্দরের উত্তর পাড়ে শতাধিক আড়তের মধ্যে এখন চালু রয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি। এ কারণে সন্ধ্যা নদীতে ভাসমান ধান-চালের হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা নেই বললেই চলে। এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না সেই ঐতিহ্যবাহী মলঙ্গার বালাম, কাজলা চাল। কুটিয়াল, শ্রমিক, কয়ালদের পদচারণায় উত্তরপাড় বাজার বন্দর রাত-দিন জমজমাট থাকত। সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার মূল হাট এবং রবি ও বুধবার গালার হাট বসত। বাকি তিন দিন চাল ওঠানো আর দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানোয় ব্যস্ত থাকতেন ব্যবসায়ীরা। 

ধান-চালের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপজেলার শত শত মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, অনেকে এলাকা ছেড়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে কুটিয়াল ব্যবসা করছেন। অনেক কুটিয়াল ঢাকার বুড়িগঙ্গায় খেয়া পারাপারের কাজ করছেন। ধান-চালের পুরেনো আড়তদার আ. রশিদ সরদার ও আ. সত্তার জানান, দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ধান কিনে বানারীপাড়ায় এনে বিক্রি করতেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ এক ধরনের নৌকায় করে নিয়ে আসা ধান বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠি ও মীরের হাটে বিক্রি করতেন। সে ধান কিনে কুটিয়ালরা সেদ্ধ-শুকনা করে ডিজেল রাইস মিলে ছাঁটাই করে চাল তৈরি করতেন। অন্যদিকে, বানারীপাড়ায় প্রাকৃতিকভাবে চাষ করা ফসল ধান, পরিমাণ মতো সিদ্ধ-শুকনা করে ঢেকি ছাঁটার মতো স্থানীয় মিলে ক্র্যাশ করে বাজারজাত করতেন ব্যবসায়ীরা। খেজুর বাড়ির কুটিয়াল আনিস ফকির এবং দিদিহারের আ. হক জানান, তারা সবাই কুটিয়াল ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। এখন আর আগের মতো জৌলুস নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা জানান, বানারীপাড়ার ধান-চালের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ব্যবসাকে ফিরিয়ে আনতে হলে দরকার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার। এখানে ধান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা উচিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা বলেন, বরিশালের বানারীপাড়ার ধান-চালের হাট একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার ছিল। বানারীপাড়ার প্রসিদ্ধ মোকাম ধান-চালের হাট অব্যবস্থাপনার কারণে হয়তো বিলুপ্তির পথে। তবে ব্যবসায়ীরা আমার কাছে এলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।