মিরসরাই ইউপি নির্বাচন
মোহাম্মদ ইউসুফ, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে মিরসরাইয়ে সহিংস হয়ে উঠছে নির্বাচনি মাঠ। এখানকার ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে ১৩ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিনা ভোটে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। বাকি ৩ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তাদের দমনে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের লোকজন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখানকার মিরসরাই সদর ইউনিয়ন, খৈয়াছড়া ইউনিয়ন, ইছাখালী ইউনিয়নের নির্বাচনি মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের লোকজন সংঘর্ষে জড়াবে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সাইফুল্লাহ নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় দিন শেষে রাতেই তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর লোকজন। একই সময় গণমাধ্যমের কাছে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার জেরে মিরসরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহের মাসুদের ছেলে তানভির হোসেন এবং একই ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলমের ছেলে নূর নবী যায়েদকে মারধর করে। বুধবার দুপুরে মিঠাছরা বাজারে মো. সাইফুল্লাহর কর্মীদের ধাওয়া করে নৌকার প্রার্থী শামসুল আলম দিদারের কর্মীরা। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহের মাসুদ বলেন, ‘মিরসরাই ইউনিয়নে বিতর্কিত ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়ার প্রশ্নে গত কয়েকদিন আমি গণমাধ্যমকে বক্তব্য দিয়েছি। এসব বক্তব্যে ক্ষুদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন আমার ছেলে তানভীর এবং আমাদের আরেক মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলমের ছেলেকে মারধর করেছে। আমি এটির বিচার প্রার্থনা করছি।’ এদিকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর মিরসরাই সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামসুল আলম দিদার। তিনি বলেন, ‘নৌকার গণজোয়ার দেখে আমার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ভিত্তিহীন কিছু অভিযোগ তুলছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করছে।’
এদিকে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রতিনিয়ত তাকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন হুমকি ধমকি দিচ্ছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তার ছোট ভাই আশেক ইকবাল চৌধুরীর ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ প্রার্থী আওয়ামী লীগের মাহফুজুল হক জুনুর লোকজন। অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহফুজুল হক জুনু। তিনি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে এমন ঘটনা জেনেছেন আমিও লোকের মুখে শুনেছি। তবে আমার বিষয়ে জাহেদ ইকবাল চৌধুরীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া মো. মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, গত ১৭ অক্টোবর মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় নৌকার প্রার্থীর লোকজন আমাকে মারধর করে মনোনয়ন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে আমি হাইকোর্টে রিট করি। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আমার মনোনয়ন গ্রহণ করে রির্টানিং কর্মকর্তা। এরপর থেকে নৌকা প্রার্থীর লোকজন আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য। মিরসরাই থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ‘খৈয়াছড়া ইউনিয়নে প্রার্থীর ভাইয়ের হামলার বিষয়টি জেনে তাত্ক্ষণিক আমরা ফোর্স পাঠিয়েছি। তাকে হাসপাতালে নিতে আমার ফোর্স সহযোগিতা করেছে। মিরসরাই ইউনিয়নে হামলার ঘটনা আমি শুনেছি তবে কেউ আমাকে লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’
উপজেলা প্রাণী সমপদ কর্মকর্তা এবং ১০নং মিঠানালা, ১১নং মঘাদিয়া ও ১২ নং খইয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র পোদ্দার বলেন, খইয়াছড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহেদ ইকবাল চোধুরীর ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি মৌখিকভাবে মুঠোফোনে জানিয়েছেন। পরবর্তীতে আমি মিরসরাই থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। প্রার্থীকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পরও যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে হামলার যে ঘটনা ঘটছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
