পিরোজপুর ও তানোরে ইউপি নির্বাচন
ইত্তেফাক ডেস্ক
পিরোজপুর ও রাজশাহীর তানোরে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। আওয়মী লীগ ও বিএনপির জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বেশকিছু নেতা বিদ্রোহী অবস্থানে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
নাসিম আলী, পিরোজপুর অফিস জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক নেতা বিদ্রোহী অবস্থানে নির্বাচনি মাঠে নেমেছেন। এক জন আবার জেলা পরিষদের সদস্যের মতো সুবিধাজনক পদ ত্যাগ করেও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন। পিরোজপুর সদর ও নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ নভেম্বর। এদিকে দেখা গেছে, পিরোজপুর সদর ও নাজিরপুর উপজেলায় চলমান ছয় ইউনিয়নের নেতারা এক্ষেত্রে যেন অগ্রগামী। পিরোজপুরের শংকরপাশা ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দিন মাতুব্বর। এ ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থী বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন মল্লিক স্বপন। দুর্গাপুর ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাম প্রসাদ রায়। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন দলের ইউনিয়ন সভাপতি মো. নোমান শেখ। এই ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. চান মিয়া মাঝি দলের কাছে নৌকা মার্কা চেয়েও বঞ্চিত হওয়ার আক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছেন, চেয়ারম্যান পদে যাকে নৌকা মার্কা দেওয়া হয়েছে তার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নাই। অন্যদিকে শিকদার মল্লিক ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন আওয়ামী লীগ কর্মী পিন্টু হাওলাদার। নাজিরপুর উপজেলায় শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন নেতাকর্মী। তারা হলেন :উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তুহিন, আলতাফ হোসেন বেপারী ও মোতাহার হোসেন হাওলাদার। একই উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের নৌকা মার্কার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আশুতোষ বেপারির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন দলের প্রবীণ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহআলম আকন। শাখারিকাঠি ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান গাউসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন একই দলের বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান খালিদ হোসেন সজল ও জিয়াউল হক হাওলাদার। এদিকে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান চাঁন ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার। নাজিরপুরের শাখারিকাঠি ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মো. জাকির খান চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। এদিকে কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মামুন হোসাইন বাবলু জোমাদ্দার দলের কাছে নৌকা মার্কা চেয়ে বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান পদে। উল্লেখ্য, কাউখালীতে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৮ নভেম্বর।
তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে রাজশাহীর তানোর উপজেলার ৭ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৮ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তাদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা রিটার্নিং অফিসার প্রত্যেক প্রার্থীকে তাদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। তবে তানোরে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যেও বিদ্রোহী প্রার্থীরাও বৈধ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত ছয় জনকে নৌকা আর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ২১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিজ পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে, সরনজাই ইউপিতে ঋণ খেলাপির দায়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (অতি.) গোলাম মোস্তফা জানান, সুষ্ঠু পরিবেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে তারা বদ্ধপরিকর। তিনি আরো জানান, পুরো উপজেলার সাত ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৬৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৫২ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপের তপশিল অনুযায়ী আগামী ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
