ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে পাকা ভবন

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১০

 

মো. কামাল হোসেন, হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা 

বেহাল অবস্থায় আছে হোমনা শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। মাঠ জুড়ে রাখা হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। স্টেডিয়ামের পাকা ভবন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। জানা গেছে, বর্তমান পৌর ভবনের সামনে ১৯৯৫ সালে ৮.৮৬ একর জায়গা ভরাট করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ভরাটের পর এই জায়গা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে এবং ২০১৮ সালে এই মাঠকে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম ঘোষণা করে একটি পাকা ভবন ও অস্থায়ী গ্যালারি নির্মাণ করা হয়। এরপর একই বছর ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন। এরপর এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ফুটবল ও ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াররা এই মাঠে নিয়মিত ক্রিকেট ও ফুটবল  খেলে আসছিলেন।  দেখা গেছে, খুঁটিবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে মাঠটির অনেক জায়গায় উঁচু নিচু হয়ে গেছে এবং মাঠে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় মাঠটি সংকুচিত হয়ে বর্তমানে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের দক্ষিণ এবং পশ্চিম পাশের বেশির ভাগ জায়গায় বিদ্যুতের শত শত নতুন ও পুরোনো খুঁটি রয়েছে। মাঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং খুঁটি রাখার কারণে মাঠ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পূর্বপাশের গোলপোস্টের পেছনে ও সামনে খুঁটি রাখা হয়েছে। কয়েকটি ট্রাক্টরে মাঠের মধ্য দিয়ে খুঁটি আনা নেওয়া হচ্ছে।

হোমনা উপজেলার সাবেক কৃতি ফুটবলার মো. আবদুল কাইউম বলেন, আমরা যখন খেলাধুলা করেছি, তখন হোমনায় কোনো স্টেডিয়াম ছিল না। তেমন কোনো ভালো মাঠও ছিল না। কোনো রকম স্কুল মাঠে খেলতাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালে হোমনায় শেখ রাসেল স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেছেন। ভাবলাম এ মাঠে এলাকার ছেলেরা খেলাধুলা করবে। কিন্তু দেখলাম স্টেডিয়ামটিও বিভিন্ন কারণে খেলার অনুপযোগী হয়ে আছে।

হোমনা পশ্চিম পাড়া ফুটবল দলের কৃতী খেলোয়ার মো. সাইদুর বলেন, উপজেলায় একটি স্টেডিয়াম থাকার পরও সেটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় আমরা সেটি ব্যবহার করতে পারছি না।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান খোকন বলেন, কয়েক বছর ধরে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি রাখছে। দিনের পর দিন তারা মাঠের জায়গা দখল করে নিচ্ছে। বেশ কিছু দিন আগে বিদ্যুতের খুঁটি আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহূত ট্রাকের ধাক্কায় মাঠের গোল পোস্ট ভেঙে যায়। পরে তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে তা ঠিক করি।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-৩ এর ডিজিএম আজিজুর রহমান বলেন, এই মাঠে বিদ্যুতের খুঁটি রাখলে খুব সহজেই হোমনা ও তিতাস উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আনা-নেওয়া যায়। আর বিদ্যুতের খুঁটিগুলো রাখা হয়েছে মাঠের এক পাশে। এতে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমন দে বলেন, আমি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে আসা যাওয়া করি। স্টেডিয়ামটির এ অবস্থা দেখে অনেক দুঃখ লাগে। দেখি পল্লী বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এগুলো কীভাবে সরানো যায়। মাঠটিকে খেলাধুলার উপযুক্ত করে তোলা হবে।