যদি ১০ রান কম হতো...

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১৫

জান-ই-আলম, শারজাহ থেকে

শারজাহ স্টেডিয়ামকে দুরন্ত এক লড়াই, টি-২০ ম্যাচ উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিকেটীয় রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচের ফলাফল এসেছে শেষ বলে। বাংলাদেশের জন্য হতাশার যে শেষ অব্দি জয়ের তরী তীরে বেড়ানো যায়নি। ৩ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে মাঠ ছেড়েছে ক্যারিবিয়ানরা।

ম্যাচের শেষ দিকে চলছিল ক্ষণ গণনার মতোই রান-বলের সমীকরণে চোখ রাখা। জয়ের জন্য ২৪ বলে ৩৩, ১৮ বলে ৩০, ১২ বলে ২২ ও ৬ বলে ১৩ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। শেষ বলে ৪ রান দরকার হলেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ আন্দ্রে রাসেলের বলটাতে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, উইন্ডিজদের স্কোরটা ১০ রান কম হলে হয়তো ভিন্ন গল্প লেখা যেত। এই আক্ষেপই ঝরেছে অধিনায়কের কণ্ঠে। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের বোলিংয়ের চাপ ঠেলেই ১৪২ রান তুলেছিল ক্যারিবিয়ানরা। বাংলাদেশ ১৩৯ রানের বেশি তুলতে সমর্থ হয়নি।

মাহমুদউল্লাহ গতকাল বলেছেন, ‘উইকেট কিছুটা কঠিন ছিল আমরা দেখেছি, যখন আমরা বোলিং শুরু করেছিলাম যখন ব্যাক অব লেন্থে বোলিং করা হচ্ছিল উইকেটে ওইভাবে খুব একটা বল ব্যাটে আসছিল না, বাউন্স কিছুটা লো ছিল আমরা বুঝতে পেরেছিলাম। তো আমরা ওভাবেই বোলিং করছিলাম। আমাদের বোলাররা ভালই বোলিং করেছিল কিন্তু যে দুইটা সুযোগ এসেছিল সেগুলো যদি নিতে পারতাম সম্ভবত ১০টা রান কম হত এবং আমাদের জন্য চেজটা কম হত।  চেষ্টা করেছি, টি টোয়েন্টি খেলায় এমন মার্জিন হয়। কিন্তু জিততে পারিনি।’

গতকালও মেহেদী ২টি ও আফিফ ১টি ক্যাচ ফেলেছেন। স্ট্যাম্পিং মিস করেন লিটন। যার সুযোগেই বড় জুটি গড়েন পুরান ও চেজ। সংবাদ সম্মেলনে এমন মিসের প্রসঙ্গ তুলতেই মাহমুদউল্লাহ অসহায় মনে হলো। তার মতে, আফিফের মতো ফিল্ডার ক্যাচ মিস করলে কিছু করার থাকে না।

মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘এরকম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে বিশেষ করে দলের যারা সেরা ফিল্ডার ক্যাচ মিস করে অনেক সময়, কেউতো আর ইচ্ছে করে করে না। কিন্তু আমরা প্রত্যাশা করি যে ওরা সুযোগগুলো নিবে।  কিন্তু যেহেতু ধারাবাহিকভাবে ওই ভুলগুলো হচ্ছে ম্যাচ বাই ম্যাচ অবশ্যই এটা একটা চিন্তার বিষয়।’

রানের খরায় ছিলেন লিটন দাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনে নেমে রান পেলেন বটে। একপ্রান্ত আগলে খেলেছেন ৪৩ বলে খেলেছেন ৪৪ রানের ইনিংস। এতগুলো বল খেলার পর তার স্ট্রাইক রেটটা (১০২.৩২) আরও বেশি হতে পারতো। ১৯তম ওভারের শেষ বলে সর্বশক্তিতে মেরেও ক্লান্ত লিটন বাউন্ডারি পার করতে পারেননি।

তবে অসীম সাহসিকতায় নিজের সবটুকু                 নিংড়ে দিয়ে লড়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের অন্তিম বলে প্রয়োজনীয়                 ৪ রান তুলতে পারেননি তিনি। ২৪ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেও হারের বিষাদ নিয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে শেষ বলের পরিকল্পনা নিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘শেষ বলটা আমি জানতাম যে ও ব্লকহোলে করবে। কারণ লেগসাইডে যেহেতু চারটা ফিল্ডার ছিল। লেন্থের আগের দুইটা বলও ভালো ইয়র্কারে করেছিল, মানে আমি তুলতে পারিনি। চিন্তা করছিলাম যে একটু জায়গা করে হয়তো বা ও যদি মিস করে তাহলে মিড-অফের ওপর দিয়ে মারতে পারি বা যদি মিস করে তাহলে কাভার, পয়েন্ট বা ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়েও মারতে পারি। এটা আমার দোষ আমি এক্সিকিউট করতে পারিনি ওই লাস্টের বলটা।’

তবে লিটনের উইকেটটাকে টার্নিং পয়েন্ট বলছেন অধিনায়ক। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার আর লিটনের জুটিটা মোটামুটি ভালোই হচ্ছিল। ব্রাভোর  ওই বলে যদি অলমোস্ট ছয়টা হয়ে যেত তাহলে অনেকটা এগিয়ে যেতাম। আমার মনে হয় ওইটা একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল ম্যাচের কারণ, লিটনও খুব সেট ছিল।’

 

গ্রুপ ১-এর পয়েন্ট টেবিল

দল                       ম্যাচ         জয়          হার          পয়েন্ট        রানরেট

ইংল্যান্ড                    ২            ২            ০             ৪           ৩.৬১৪

অস্ট্রেলিয়া                  ২            ২            ০             ৪           ০.৭২৭

দক্ষিণ আফ্রিকা            ২            ১            ১             ২           ০.১৭৯

শ্রীলঙ্কা                     ২            ১            ১             ২           -০.৪১৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজ              ৩            ১            ২             ২           -১.৫৯৮

বাংলাদেশ                 ৩            ০            ৩             ০           -১.০৬৯

 

স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টস: বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ             রান  বল   ৪   ৬

গেইল ব মেহেদী                  ৪     ১০    ০   ০

লুইস ক মুশফিক ব মুস্তাফিজ  ৬      ৯      ১    ০

চেজ ব শরীফুল                  ৩৯    ৪৬    ২    ০

হেটমায়ার ক সৌম্য ব মেহেদী ৯      ৭     ১    ০

পোলার্ড অপরাজিত            ১৪    ১৮    ০    ১

রাসেল রান আউট (তাসকিন) ০      ০     ০   ০

পুরান ক নাঈম ব শরীফুল    ৪০    ২২     ১    ৪

ব্রাভো ক সৌম্য ব মুস্তাফিজ   ১      ৩     ০   ০

হোল্ডার অপরাজিত             ১৫     ৫     ০    ২

অতিরিক্ত (বা ১, লেবা ৬, ও ৭)     ১৪

মোট (২০ ওভার, ৭ উইকেট) ১৪২

উইকেট পতন: ১-১২ (লুইস, ৩ ওভার), ২-১৮ (গেইল, ৪.২) ৩-৩২ (হেটমায়ার, ৬.৪), ৪-৬২ (রাসেল, ১২.৪), ৫-১১৯ (পুরান, ১৮.১), ৬-১১৯ (চেজ, ১৮.২), ৭-১২৩ (ব্রাভো, ১৯.১)।

বোলিং: মেহেদী ৪-০-২৭-২, তাসকিন ৪-০-১৭-০, মুস্তাফিজ ৪-০-৪৩-২, শরীফুল ৪-০-২০-২, সাকিব ৪-০-২৮-০।

বাংলাদেশ

নাঈম ব হোল্ডার                 ১৭    ১৯     ২    ০

সাকিব ক হোল্ডার ব রাসেল   ৯     ১২     ১    ০

লিটন ক হোল্ডার ব ব্রাভো     ৪৪    ৪৩    ৪   ০

সৌম্য ক গেইল ব আকিল     ১৭    ১৩    ২    ০

মুশফিক ব রামপল               ৮      ৭     ১    ০

মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত       ৩১    ২৪    ২    ১

আফিফ অপরাজিত              ২      ২      ০   ০

অতিরিক্ত (বা ২, লেবা ১, ও ৮)     ১১

মোট (২০ ওভার, ৫ উইকেট) ১৩৯

উইকেট পতন: ১-২১ (সাকিব, ৪.৩), ২-২৯ (নাঈম, ৫.৪), ৩-৬০ (সৌম্য, ১০.৪), ৪-৯০ (মুশফিক, ১৩.৩), ৫-১৩০ (লিটন, ১৯)।

বোলিং: রামপল ৪-০-২৫-১, হোল্ডার ৪-০-২২-১, রাসেল ৪-০-২৯-১, আকিল ৪-০-২৪-১, ব্রাভো ৪-০-৩৬-১।

ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: নিকোলাস পুরান।