চিন্তায় মাথায় হাত পাকিস্তানি সমর্থকদের। প্রায় হাতের বাইরে যেতে থাকা ম্যাচটা আফগানরা আয়ত্বে আনে রশিদ খান ও নাভিন উল হকের দুর্দান্ত বোলিংয়ে। শেষ দুই ওভারে ২৪ রান আটকালেই ঐতিহাসিক এক জয়ের উল্লাসে মেতে উঠবে তারা। কিন্তু আসিফ আলি ভাবলেন, তিনি থাকতে সেটা হতে দিবেন না । তাই ৭ বলে ৪ ছক্কায় ২৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটের এক জয় এনে দেন এই পাওয়ার হিটার ব্যাটসম্যান। টানা তৃতীয় জয়ে মসৃণ করে তোলেন পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথটাও।
টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য গতকাল পারফেক্ট একটা দিনই ছিল বলা যায়। শারজায় প্রথম ম্যাচে শেষ বলের রোমাঞ্চকর থ্রিলারের পর দুবাইয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে সেই একই চিত্রনাট্য। না এই ম্যাচের ফল বের করতে শেষ ওভারে যাওয়া লাগেনি। করিম জানাতের করা ১৯তম ওভারেই ম্যাচের রফাদফা করে দেন আসিফ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ সময়ে এসে ঠিক একই কাজটা করেছিলেন তিনি। ওভারের শুরুটাই ছক্কা দিয়ে করেন আসিফ। পরের বল ডট দিয়ে আবারও ছক্কা। চতুর্থ বল ডট দেওয়ায় মনে হচ্ছিল একটু রয়ে-সয়ে শেষ ওভারে নিয়ে যাবেন ম্যাচটা। কিন্তু টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে সেখানেই পেরেক ঠুকে দেন আফগানিস্তানের কফিনে।
ছোট ইনিংসে বড় অবদান রেখে ম্যাচ সেরা হওয়া এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘এই প্রান্ত থেকে বাউন্ডারি ছোট ছিল তাই আমি আমার পার্টনারকে বললাম, আমি এই ওভারেই হিট করব। আল্লাহকে ধন্যবাদ আমরা শেষ করতে পেরেছি। আমি পরিস্থিতি বুঝে খেলি, তা কী চায় এবং কোন বোলারের কত ওভার বাকি আছে। শোয়েবকে বলেছি নাভিন খুব ভালো বোলিং করছে, এই প্রান্ত থেকে আমি এক ওভারে ২৫ রানও নিতে পারি। তাই আমি পরিকল্পনা সাজাই।’ ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় আফগানদের স্পিনের সামনে সতর্ক হয়েই খেলে পাকিস্তান। কিন্তু তাতে চাপও বাড়ছিল। তাই অধিনায়ক বাবর আজমের ৫১ রানের ইনিংসও কম গুরুত্ববহন করে। রশিদ খানের গুগলিতে তার বোকা বনে যাওয়ার পরই মোড় ঘুরে যায় ম্যাচের। কিন্তু তা আবার ঘুরিয়ে দেন আসিফ।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই উইকেট বিলাতে থাকে আফগানিস্তান। অপ্রয়োজনীয় শটের কারণে এক পর্যায়ে ৭৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেন অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী ও গুলবাদিন নাইব। ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে লড়াই করার পুঁজি গড়েন তারা। কিন্তু দিনশেষে তা বিফলেই যায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান: ১৪৭/৬ ২০ ওভার (নবী ৩৫*, নাইব ৩৫*, জাদরান ২২; ইমাদ ২/২৫, শাহিন ১/২২, শাদাব ১/২২)
পাকিস্তান: ১৪৮/৫ ১৯ ওভার (বাবর ৫১, ফাখর ৩০, আসিফ ২৫*; রশিদ ২/২৬, নাভিন ১/২২, মুজিব ১/১৪)।
ফল: পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: আসিফ আলী।
