এইচ.এম ফেরদাউস হাসান রাসেল
প্রভাষক
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা
‘দুই বিঘা জমি’
জয়তুন বিবি অভাবের তাড়নায় ঢাকা চলে আসে। আসার সময় তার গরুটি প্রতিবেশি পরানের কাছে দিয়ে আসে। ৩ মাস পর বাড়ি গিয়ে গরুটি ফেরত চাইলে পরান জানায় তার গরুটি মারা গেছে। জয়তুন বিবি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে পরান গরুটি এক কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে । জয়তুন বিবি আফসোস করে বলে সারাটা জীবন আমাকে ঠকিয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকটি দুই বিঘা জমি কাহিনী কবিতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র বিশ্লেষণ করো।
ঘ. উদ্দীপকে শোষণের দিকটি ফুটে উঠেছে যা দুই বিঘা জমি কবিতার খণ্ডচিত্র মাত্র।
দুই বিঘা জমি কবিতায় দরিদ্র কৃষক উপেন তার শেষ সম্বল দুই বিঘা জমি নিয়ে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু অত্যচারী শোষক ভূস্বামী তার বিলাসিতা পুরণের জন্য উপেনের দু্ই বিঘা জমি কিনে নিতে চায়। এতে উপেন অস্বীকৃতি জানালে সে মিথা মামলা করে উপেনের দুই বিঘা জমি কেড়ে নেয়। ফলে উপেন পরিণত হয় ভিখারিতে এবং সন্ন্যাস বেশ ধারণ করে দেশান্তর হয় । দীর্ঘদিন পর উপেন স্বদেশে ফিরে এলে তার স্বদেশ ভুমি দুই বিঘা জমি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তার মনের মধ্যে জেগে ওঠে নানা স্মৃতি। এ সময় উপেন তার দু্ই বিঘা জমির উপর রোপিত আম গাছের নিচে বিশ্রাম নিলে রাজা তাকে চোর ভেবে প্রহার করে।
উদ্দীপকে জয়তুন বিবি অভাবের তাড়নায় ঢাকা চলে এলে তার গরুটি প্রতিবেশীর কাছে রেখে আসে। দীঘদিন পর সে যখন গরুটি চাইতে যায় তখন প্রতিবেশী তাকে জানায় গরুটি মারা গেছে। কিন্তু সে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে প্রতিবেশী গরুটি কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এভাবেই সে প্রতিবেশী দ্বারা শোষিত হয়।
কবিতায় কবি শাসন শোষণ অত্যাচার দেশান্তর হওয়া দেশপ্রেম স্মৃতি কাতরতা বেদন প্রভৃতি বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। আর উদ্দীপকে শুধু শোষণের দিকটি বিদ্যমান।
তাই সংগত কারণেই বলা যায় উদ্দীপকটি কবিতার খণ্ডচিত্র মাত্র।
