রপ্তানি বাড়াতে আফ্রিকার বাজার অত্যন্ত সম্ভাবনাময়

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ২১:০৭

 ‘বাংলাদেশ ও আফ্রিকার মধ্যকার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

গতবছর আফ্রিকার দেশসমূহের আন্তঃবাণিজ্য ১৩ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার (১১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা) হলেও বাংলাদেশ তার মোট রপ্তানির মাত্র ১ দশমিক ০২ শতাংশ আফ্রিকায় রপ্তানি করে। বাংলাদেশের ওষুধ, টেক্সটাইল, কৃষিজাত, পাটপণ্য ও পাদুকাসহ অন্যান্য পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এমতাবস্থায় এলডিসি হতে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বাণিজ্য আরো বাড়াতে আফ্রিকার বাজারে পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেখানে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ‘বাংলাদেশ ও আফ্রিকার মধ্যকার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনের ৫ম দিনে গতকাল শনিবার এই ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম আহসান। ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার (১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা), তবে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির মাত্র ১ দশমিক ০২ শতাংশ আফ্রিকার দেশগুলোতে রপ্তানি হয়ে থাকে। তিনি বলেন, আফ্রিকার দেশসমূহ হতে বাংলাদেশ প্রধানত তুলা আমদানি করে এবং বর্তমানে বাংলাদেশের টেক্সটাইল, কৃষি, ফিশারিজ, বিদ্যুত্ ও টেলিযোগাযোগ খাতে আফ্রিকার বিনিয়োগ প্রায় ৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুকরণ, বাংলাদেশে আফ্রিকার দেশসমূহের দূতাবাস স্থাপন, এফটিএ ও পিটিএ স্বাক্ষরের ওপর জোরারোপ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেন, আফ্রিকা মহাদেশে প্রচুর জমি রয়েছে, যেখানে আমাদের উদ্যোক্তারা তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান উল্লেখ্য করেন, আফ্রিকার বাণিজ্য প্রধানত ‘আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট (আগোয়া)’ এবং ‘কমন মার্কেট ফর ইস্টার্ন অ্যান্ড সাউদার্ন আফ্রিকা (কমেসা)’-এর মাধ্যমে বেশি মাত্রায় প্রভাবিত। তিনি জানান, আফ্রিকায় বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইপিবি পাঁচটি বাণিজ্য মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর আফ্রিকার দেশগুলোর উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত হচ্ছে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আফ্রিকা) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, আফ্রিকায় অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনসমূহ সেখানকার বিভিন্ন চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আফ্রিকার দেশগুলোর ওষুধের মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়ে থাকে, যার ফলে এ খাতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, ওষুধ শিল্প আফ্রিকায় শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে দক্ষ মানব সম্পদ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বেশ স্বল্পতা রয়েছে বলে, তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।