ভাঙা সড়ক, সামান্য বৃষ্টিতে বাসায় ঢোকে ড্রেনের পানি

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ২২:০০

নাগরিক বিড়ম্বনায়

ঢাকা উত্তর সিটির

৪৯ নম্বর ওয়ার্ড

নিলয় মামুন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডটি অন্তর্ভুক্ত ছিল দক্ষিণখান ইউনিয়নে। পরে নতুন ওয়ার্ড হিসেবে এটি যুক্ত হয় সিটি করপোরেশনে। ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংলগ্ন ওয়ার্ডটি  কাওলা, আশকোনা ও গাওয়াইর, সিটি কমপ্লেক্স, মেডিক্যাল রোডসহ আরো কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত। বিমানবন্দরের পাশের এলাকা হলেও এখানে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমে পানি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকায় জলাবদ্ধতা এখন এই এলাকার প্রধান সমস্যা। এ ছাড়া ওয়ার্ডটির প্রবেশমুখে বিমানবন্দর রেললাইন থেকে হাজি ক্যাম্প হয়ে আশকোনামুখী সড়কের দুপাশে ফুটপাত দখল করে বসানো হয় দোকান। এক পাশে অটোরিকশার জটলা, অন্য দুই পাশের ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের বখরার বিনিময়ে প্রতিদিন ফুটপাতে দোকান বসে। মাঝেমধ্যে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ফুটপাত দখলমুক্ত করলেও ফের তা  দখল হয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডের বেশির ভাগ সড়কেরই বেহাল অবস্থা। নর্দমার লাইন ভালো না হওয়ায় বৃষ্টির পানি সড়কে জমে থাকে মাসের পর মাস। কিছু কিছু সরু সড়কে এমনভাবে পানি জমে থাকে যে, দূর থেকে বোঝার উপায় থাকে না এটি সড়ক নাকি নর্দমা। এমন বেহাল অবস্থার কারণে দুর্ভোগ পোহায়  এলাকাবাসী। এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে নিজেই বেহাল সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমান নাঈম। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘গ্রামকে গ্রাম উন্নয়ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী গৃহহীন মানুষকে ঘর দিচ্ছেন। বড় বড় সড়ক, মহাসড়ক তৈরি হচ্ছে; অথচ রাজধানীর উপকণ্ঠে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে আমাদের এই ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা বলতে কিছু নেই। ময়লা পানি রাস্তায় উপচে পড়ছে। এ অবস্থায় মানুষ এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, আশকোনার বেশির ভাগ সড়কেরই অবস্থা নাজুক। এর মধ্যে আশকোনা বাজার রোড, মেডিক্যাল রোড, ২ নম্বর ভাই ভাই হোটেলের গলি, সিটি কমপ্লেক্স রোড, গাওয়াইর স্কুল রোড, কলিল বক্স রোডসহ বেশির ভাগ সড়কই ভাঙাচোরা এবং বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। বিমানবন্দরের পাশে হয়েও তো কোনো উন্নয়ন হয়নি এখানে। তাহলে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে কী লাভ হলো?’ আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘অল্প বৃষ্টি হলেই সড়কের পানি বাসাবাড়িতে ঢুকে যায়। বৃষ্টি হলেই ভোগান্তির আর শেষ থাকে না। এ থেকে উত্তরণের উপায় যে কবে আসবে, সেই অপেক্ষায় আছি।’ এ বিষয়ে আনিছুর রহমার নাঈম বলেন, ‘নতুন ওয়ার্ডের জন্য সিটি করপোরেশন থেকে নতুন সড়কের কাজ শুরু হলে মানুষের হয়তো কিছুটা কষ্ট লাঘব হবে। এসব সড়ক অনেক আগে থেকেই এই অবস্থায় পেয়েছি আমি। তবে বহু সড়ক নিজ উদ্যোগে আমি পাকা ও সলিং করে দিয়েছি। পানি নিষ্কাশনেরও ব্যবস্থা করেছি নিজ উদ্যোগে। ’