সবার আগে বাংলাদেশের এমন বিদায় কল্পনাও করেনি কেউ, নামিবিয়া, আফগানিস্তান এখনো টিকে আছে
স্পোর্টস রিপোর্টার
এক রাজ্যের স্বপ্ন নিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেমিফাইনালের মঞ্চে ব্যাট-বল হাতে দাঁড়াবেন বাংলার ক্রিকেটের পোষ্টার বয় সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহমান, মুস্তাফিজ, তাসকিন, লিটন দাস, সৌম্য সরকাররা। দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটানুরাগীরাও স্বপ্ন দেখেছিলেন যুদ্ধের মঞ্চে দেশের পতাকা উড়াবেন। আশার গুড়ে বালি পড়েছে। বিশ্বকাপ হতে সবার আগে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। এমন বিদায় মেনে নেওয়া খেলা প্রিয় মানুষের জন্য কঠিন। একটি ম্যাচেও বাংলার ক্রিকেটাররা ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে এক সঙ্গে জ্বলে উঠতে পারেননি। সাকিব আল হাসান ভারতের আইপিএলে খেললে টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে। কিন্তু তিনি পারলেন কোথায়। লিটন দাস একে একে ব্যর্থ হলেন। সৌম্য সরকার আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। লিটন যখন জ্বলে উঠলেন সাকিব তখন নিষ্প্রভ। বোলিংয়ে ভালো করেনি। ব্যাটিংয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা। ফিল্ডিং দেখে ক্রিকেট দুনিয়া একগাল হেসেছে।
মুশফিকুর রহমান, যাকে মিস্টার ডিফেন্ডেবল বলা হত, দুর্দিনের কান্ডারি হওয়া তো দূরের কথা, সেই তিনি একের পর এক হতাশা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেননি। মুশফিকুর রহিম সমালোচকদের আয়নায় মুখতে বলেছেন। স্কুপ খেলতে গিয়ে ক্রিজে প্রাণ হারিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। স্কুপ, সুইপ, রিভারসুইপ খেলতে গিয়ে জালে আটকা পড়ছেন। উলটো তার এই বিলাসিতার কারণে মাশুল দিচ্ছে বাংলার ক্রিকেট। তিনি কি একবারও নিজের মুখটা আয়নায় দেখেন না ? তার মতো সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছে আরো দায়িত্বপূর্ণ কিছু আশা করেছিল দর্শক। মুশফিক বার বার একইভাবে আউট হয়ে বিতর্কিত হয়েছেন। তার পরও এই একই শট খেলছেন তিনি। একে তো পারফরম্যান্স ভালো হয়নি। তার ওপর খেলোয়ারদের বিতর্কিত মন্তব্য ক্রিকেটাঙ্গনে ঝড় তুলেছে। ক্রিকেটারদের বিতর্কিত করেছে।
বিশ্বকাপ হতে সবার আগে বাংলাদেশের বিদায় কেউ কল্পনাও করেনি। অথচ নামিবিয়ার মতো দেশ, আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশও যেখানে বিদায় নেয়নি। সেখানে ক্রিকেট দুনিয়ায় শক্তিশালী অবস্থানে গিয়েও বাংলাদেশকে বিদায় নিতে হলো। এটা কি শুধুই পারফরম্যান্সের কারণে নাকি অন্তরালে রয়েছে আরো গল্প। বাংলাদেশের বোলিং, ব্যাটিংয়ের পাশে হতশ্রী ফিল্ডিং দেশে হতবাক। বিদেশি কোচিং স্টাফ এনে লাখ লাখ ডলার খরচা করা হচ্ছে। তার পর কোনো উন্নতি করতে পারেনি। অথচ বিদেশি কোচিং স্টাফদের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো আলোচনাই হয় না। মাশরাফি তো অনেক কথাই বলে দিলেন। একবার হলেও কি যাচাই-বাছাই করা যায় না মাশরাফির কথাগুলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা শুরু হওয়ার আগে জাতীয় সংগীতে কাঁদলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। আর খেলা শেষে বাংলাদেশের বিদায়ে কাঁদলেন কোটি সমর্থক।
