রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা বাড়াবে এফএও, ডব্লিউএফপি

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:২২

মিয়ানমার হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের পর্যাপ্ত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি)। ইতালির রোমে এফএও, ডব্লিউএফপি এবং আইএফএডি এর প্রধানগণ পৃথকভাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে ১৩ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের সদর দফতরে সাক্ষাত্ করেন। তারা বাংলাদেশ ও এই তিনটি সংস্থার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রতি আলোকপাত করেন। অর্থমন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য সভার সভাপতি অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তারা গত দশকে বাংলাদেশের জিডিপিতে ৬ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি হওয়ায় এবং দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি মিয়ানমার হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব পদক্ষেপ প্রহণ করায় তারা প্রশংসা করেন।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি বাংলাদেশে তার সাম্প্রতিক সফরকে স্মরণ করেন এবং রোহিঙ্গাদের অমানবিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণের পক্ষে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য তাদের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি, ডব্লিউএফপি জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্য সহায়তা ৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলার থেকে ৯৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে বৃদ্ধি করেছে।

ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও) এর মহাপরিচালক জসি গ্রাজিয়ানো দ্য সিলভা অসাধারণ অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশকে এফএও এ পর্যন্ত ৩০ কোটি ডলার ব্যয়ের ৩২৬ টি জাতীয় প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করেছে। বর্তমানে এফএও ৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলার ব্যয়ের ৩৬ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এফএও প্রধান জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লুএফপি)’র অবিলম্বে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে কৃষিখাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন স্থানান্তর করার জন্য কৃষি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য এফএওকে অনুরোধ করেন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আনারস, লিচুর মতো উন্নত ফলের জন্য ফল প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন করার আহ্বান জানান।

ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভলপমেন্ট (আইএফএডি) এর সভাপতি জিলবার্ট এফ হাউংবো জানান, ১৯৭৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশে অনুদান এবং কম সুদের ঋণ হিসাবে আইএফএডি ১৮৫০ কোটি ডলার সরবরাহ করেছে।

চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রমাগত সহায়তার জন্য সংগঠনের প্রধানদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অর্থমন্ত্রী। সেইসঙ্গে বাংলাদেশে জোরপূর্বক বিতাড়িত মিয়ানমার নাগরিকদের মানবিক সাহায্যের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অর্থমন্ত্রী ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আইএফএডি -এর গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় ৪২ তম অধিবেশনে যোগ দিতে ইতালির রোমে অবস্থান করছেন।