বিবর্ণ ইতিহাসের উদ্বেগ ছড়াচ্ছে পরিসংখ্যান

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৪

কিউইদের বিরুদ্ধে রেকর্ডের চাপ বাড়ছে

স্পোর্টস ডেস্ক

চোখ রাঙাচ্ছে ইতিহাস। চাপ বাড়ছে অতীত রেকর্ডে। দুরুদুরু বুকে কাঁপুনি জাগাচ্ছে পারফরম্যান্স। রবিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মরণবাঁচন ম্যাচে নামছে ভারত। তার আগে মোটেও স্বস্তির জায়গায় নেই কোহলিরা। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে ইগো। জেদ আর  গোঁয়ার্তুমির কক্ষপথ থেকে সরে এসে প্রাধান্য দেওয়া উচিত ক্রিকেটের যুক্তিকে। কে জানে, বিরাট  কোহলি-রবি শাস্ত্রী জুটি তা করবেন কি না! গত রবিবার পাকিস্তানের সামনে ছিল বিশ্বকাপের আসরে ভারতের বিরুদ্ধে লাগাতার পরাজয়ের প্রতিশোধ। ঠিক তেমনই কাঁটা এবার সহ্য করতে হবে ভারতীয় শিবিরকে। যে কোনো ফরম্যাটের বিশ্বকাপ মঞ্চে ভারত শেষবার নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল ২০০৩ সালে। তার পর থেকে কাপ-যুদ্ধে কিউইরা টেক্কা দিয়েই চলেছে।

২০০৭ এবং ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপেও ব্যর্থতার রেকর্ড বদলায়নি। দুবছর আগে ওয়ান-ডে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালেও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল কোহলিদের। আর গত জুনে টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও হারের গ্লানি এড়ানো যায়নি। শুধু তাই নয়, গত বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে দুই টেস্টের সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছিল।

কিউইদের কাছে ব্যর্থতার সুদীর্ঘ ইতিহাস বদলের লক্ষ্য সামনে রেখে আগামীকাল মাঠে নামবে ভারত। পাকিস্তান পেরেছে ভারতের গাঁট কাটিয়ে উঠতে। বিরাটরা কি পারবেন কিউই কাঁটা উপড়ে ফেলতে? কাজটা সহজ নয়। টি-২০ ফরম্যাটে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছে ১৬ বার। আটটিতে জিতেছে ব্ল্যাক ক্যাপস ব্রিগেড। ভারতের জয় ছয়টিতে। টাই দুটি ম্যাচ। কিউইদের সাফল্যের হার ৫৬.২৫ শতাংশ। এই ফরম্যাটে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো দেশ এত সফল নয়। অর্থাত্ বিবর্ণ ইতিহাসের উদ্বেগ ছড়াচ্ছে পরিসংখ্যানও। এমন কঠিন ম্যাচের আগে যে কোনো দলেরই আদাজল খেয়ে মাঠে পড়ে থাকার কথা। কিন্তু কোহলি-রবিদের সেই তাগিদ কোথায়! পাকিস্তানের কাছে প্রথম ম্যাচে সব বিভাগে শোচনীয় ব্যর্থতার লজ্জা গায়ে মেখেও তাদের টনক সেভাবে নড়েনি। দুদিন বিশ্রামে কাটানোর পর বুধবার অনুশীলনে ফিরল ভারত। নেটে হাত ঘোরাতে দেখা গেল হার্দিক পান্ডিয়াকে। পাকিস্তানের কাছে হারের পর এবার নিজের অবস্থান নিয়ে কি সচেতন হলেন ভারতীয় এই অল-রাউন্ডার। উত্তর দেবে সময়ই। হার্দিক ছাড়া ব্যাট করেছেন রোহিত-কোহলিরা। এবার আসা যাক পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যত বিনা লড়াইয়ে আত্মসমর্পণ করেছে ভারতীয় দল। একের পর এক উইকেট ছুড়ে এসেছেন ব্যাটসম্যানরা। বোলিং আরো কুিসত। আউট তো দূর অস্ত, দুই ওপেনারের বিরুদ্ধে একটা আপিলও পর্যন্ত ওঠেনি। যা হয়ে গেছে, তা আর পালটানো সম্ভব নয়। কিন্তু উইলিয়ামসনের দলের বিরুদ্ধে ভুল শুধরে মাঠে নামার জন্য যথেষ্ট সময় হাতে ছিল কোহলিদের। কিন্তু সুযোগটা তারা সেভাবে কাজে লাগালেন না। দল নির্বাচনেও রয়েছে প্রচুর গলদ।  হার্দিক পান্ডিয়ার ওপর অটুট আস্থায় চিড় ধরার কোনো খবর এখনো নেই। অথচ, বিস্ফোরক ঈশান কিষান মাঠের বাইরে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। ভুবনেশ্বর কুমার, বরুণ চক্রবর্তীকেও একেবারেই সাদামাটা দেখিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘লর্ড’ শার্দূলকে ডাগ-আউটে বসিয়ে রাখার কোনো যুক্তি নেই। ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে অশ্বিনের অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। এখন দেখার বিষয়, টিম ম্যানেজমেন্ট পুরোনো গোঁ ছেড়ে নতুন পথে হাঁটতে রাজি কি না।