রিকশাচালক থেকে ড্যান্স ক্লাব মালিক, করতেন নারী পাচার

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১০

জীবিকা নির্বাহের জন্য রাজধানী ঢাকায় রিকশা চালাতে এসে বনে যান ‘ডিজে কামরুল ওরফে ড্যান্সার কামরুল’। প্রতিষ্ঠা করেন একটি ড্যান্স ক্লাব। যেটির আড়ালে শতাধিক নারীকে দেশের বাইরে পাচার করেছেন তিনি ও তার চক্রের সদস্যরা। গতকাল শনিবার এ বিষয়ে র্যাব-৪-এর প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়।  র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডর খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার কামরুল ইসলাম ওরফে জলিল ওরফে ডিজে কামরুল ওরফে ড্যান্স কামরুল চক্রটির মূলহোতা। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন। ২০১৯ সাল থেকে চক্রটি সক্রিয়ভাবে মানব পাচারের মতো অপরাধ করে আসছিল। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা হতে কম বয়সি মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলক ফাঁদে ফেলে অন্য দেশে পাচার করত। প্রথমে চক্রটি ড্যান্স শিখানোর নামে সুন্দরী মেয়েদের ঢাকায় নিয়ে আসত। পরবর্তী সময়ে তাদের পাশের দেশে বিভিন্ন চাকরির কথা বলে প্রলুব্ধ করে পাচার করত। এইভাবে এই চক্রটি মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারে লোভনীয় চাকরির কথা বলে গত দুই-তিন বছরে প্রায় শতাধিক মেয়েকে পাশের দেশে পাচার করেছে।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা উল্লেখ করে র্যাব জানায়, ভিকটিমদের সীমান্তের অরক্ষিত এলাকা দিয়ে পাশের দেশে পাচার করা হতো। এই চক্রের সঙ্গে ঐ দেশের সিন্ডিকেটের যোগসাজশ রয়েছে।                         পাশের দেশের চক্রের সদস্যরা ভিকটিমদের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন শহরে অনৈতিক কাজ করানোর জন্য বিক্রি করে দিত। এরপর থেকে ভিকটিমদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যেত না।

কে এই ডিজে কামরুল :কামরুল ইসলাম ওরফে জলিল ওরফে ডিজে কামরুল ওরফে ড্যান্স কামরুল ২০০১ সালে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় পাড়ি জমান। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বাড্ডা এলাকায় রিকশাচালক হিসেবে জীবিকা শুরু করেন। কিছুদিন পর একটি কোম্পানির ডেলিভারি ভ্যানচালক হিসেবে কাজ নেন। তারপর ড্যান্স গ্রুপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে হাতিরঝিল এলাকায় ‘ডিজে কামরুল ড্যান্স কিংডম’ নামে একটি ড্যান্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে নারী পাচার শুরু করেন। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে এক নারীকে বিউটি পার্লারে বেশি বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করেন। ঐ ঘটনায় ভিকটিমের বোন তার বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঐ মামলায় তিন মাস কারাগারে ছিলেন কামরুল। পরবর্তী সময়ে জামিনে বেরিয়ে আবারও নারী পাচারের কাজে লিপ্ত হন।

নারী পাচার করতে কামরুল বেশ কয়েকবার পাশের দেশে ভ্রমণ করেন। দেশটির নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে গোপনে সখ্য ছিল তার। চক্রটি প্রলোভনের শিকার নারীদের পরিকল্পনা মোতাবেক বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় অবস্থিত সেফ হাউজে রাখত। এরপর সুবিধাজনক সময়ে অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে পাচার করত।

এই চক্রের গ্রেফতারকৃত রিপন, সেলিম এবং শামীম নারী পাচারের অবৈধ কাজে মূলহোতাকে সহায়তা প্রদান করতেন বলে স্বীকার করেছেন। রিপন মোল্লা ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করেন। তিনি পাশের দেশের দালালের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। পাচারযোগ্য নারীদের ছবি তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। তারা ‘ওকে রিপোর্ট’ দিলে পাচার করা হতো। আসাদুজ্জামান সেলিম বর্তমানে উত্তরা এলাকায় ব্যবসা করেন। পাশাপাশি কামরুলের মানব পাচারসহ অন্যান্য অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করতেন। গ্রেফতারকৃত নাইমুর রহমান ওরফে শামীম সীমান্ত এলাকায় সেফ হাউজ পরিচালনা, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার ও পাশের দেশের দালালের কাছে ভিকটিমদের হস্তান্তর করতেন।