তিন-চার মাসে শেষ হবে পদ্মা সেতুর পিচ ঢালাই

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১৩

মূল পদ্মা সেতুতে কার্পেটিংয়ের (পিচ ঢালাই) কাজ শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হতে সময় লাগবে তিন থেকে চার মাস। পিচ ঢালাই শেষ হলেই পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের উপযোগী হবে। এরপর শুরু হবে সেতু রঙের কাজ। দেওয়াল নির্মাণ ও আলোকসজ্জা শেষ হলেই উদ্বোধন করা হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

সেতুর সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সেতুর কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখতে বৃহস্পতিবার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। পুরোদমে সেতুর কাজ চলছে। মূল পদ্মা সেতুতে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব কাজ রয়েছে সেগুলোও পুরোদমে এগিয়ে চলেছে ।

পিচ ঢালাই কীভাবে হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখুন পদ্মা সেতু অন্যান্য সেতু থেকে আলাদা। এখানে সবকিছু এমনভাবে করা হচ্ছে যেন কোনো কথা না ওঠে এটি নিয়ে। এর প্রতিটি কাজ সূক্ষ্মভাবে সম্পাদন করছেন প্রকৌশলীরা।            পদ্মা সেতুর যে স্টিলের কাঠামো রয়েছে তার ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব বসানো হয়েছে। আর এটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলবে। আর এই স্ল্যাবের ওপর এখন একশত মিলিমিটার পুরো করে পিচ ঢালাই হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা পিচ ঢালাইয়ের কাজ দুই ভাগে ভাগ করে করছি। প্রথমে যে কংক্রিটের ওপর চার মিলিমিটার পিচের স্তর করা হচ্ছে এরপর তার ওপর পাথর, সিমেন্টসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে কয়েক স্তরের পিচ ঢালাই হবে।

গত ২৩ আগস্ট সেতু পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুতে সড়ক পথের সবকয়টি স্ল্যাব বসানো শেষ হয়। পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলতে প্রয়োজন ছিল যে পিচ ঢালাইয়ের সেটাও অবশেষে শুরু হলো।

পদ্মা সেতুতে সড়ক বসানোর কাজ করা হয় চারটি ভাগে ভাগ করে। ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ থেকে পদ্মা সেতুতে রোড স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হয়। পদ্মা সেতুতে ২ হাজার ৯১৭টি রোড স্ল্যাব বসানো হয়েছে।

এছাড়া গত ২০ জুন শেষ হয় সেতুর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ। অপরদিকে পদ্মা সেতু এবং এর দুই প্রান্তে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেললাইন বসাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার আলাদা একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া পদ্মা সেতুতে থাকবে দুই ধরনের আলোকসজ্জার ব্যবস্থা। একটি যানবাহনের চলার পথ আলোকিত করতে স্ট্রিট লাইটিং, অন্যটি কোনো উত্সব কিংবা জাতীয় কোনো দিবসে পুরো সেতু নানা রঙে আলোকসজ্জা করার স্থায়ী ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাকে আর্কিটেকচারাল লাইটিং বলা হচ্ছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। সর্বশেষ সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুসারে, আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা।

মূল সেতু নির্মাণে কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি আগামী বছরের জুনে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।