অচিরেই স্টার্টআপ তহবিলের সুবিধা পাবে তরুণরা :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১৪

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, স্টার্টআপ সৃষ্টিতে সহায়তার লক্ষ্যে গত বছরের মতো চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসংক্রান্ত একটি নীতিমালাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। অচিরেই আইসিটি বিভাগ থেকে তরুণ সমাজ স্টার্টআপ গঠনে এই তহবিল-সুবিধা লাভ করতে পারবে। যুবসমাজকে সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল ও উত্পাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরে সরকারের এই কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

গতকাল শনিবার ‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট (বিগ) ২০২১’ গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে তরুণ উদ্যোক্তা, অর্থাত্ স্টার্টআপদের অনুপ্রাণিত করতে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্?মেদ পলক। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)-এর নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুল মান্নান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক ও যু্গ্মসচিব মো. আব্দুর রাকিব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তরুণেরা একদিন সফল ও সার্থক মানুষ হিসেবে রূপান্তরিত হয়ে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে প্রিয় মাতৃভূমিকে সারা বিশ্বে তুলে ধরবে। আজ সময় এসেছে তরুণদের স্বপ্ন দেখার এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের। ‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট ২০২১’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরাই একদিন গুগল, টেসলা, আমাজনের মতো বিশাল কোম্পানিতে পরিণত হবে। মুজিব জন্মশতবর্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট ২০২১’ আয়োজনে প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশ থেকে ৭ হাজারের অধিক উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও স্টার্টআপের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ আজ আইসিটি খাতে সারা বিশ্বে একটি বিশ্বাসের জায়গা করে নিয়েছে।”

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ফেসবুক, উবার, এয়ার-বিএনবি, টুইটার, লিংকড-ইন, টেসলা বা ড্রপবক্সের মতো আমেরিকান প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলো, তাদের কোনোটিই ২০ বছর আগে ছিল না। এমনকি গুগল মাত্র ২১ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজকের দিনে এসব কোম্পানি মাত্র কয়েক বছরে শত শত বিলিয়ন, এমনকি ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। ই-কমার্স জগতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান শুধু অ্যামাজনই ঘণ্টায় আড়াই মিলিয়ন ডলার নিট প্রফিট করে, যা সত্যি অবিশ্বাস্য। বিশ্বের বৃহত্তম মিডিয়া সংস্থা ফেসবুকের বেতনভুক্ত কোনো সাংবাদিক বা কন্টেন্ট নির্মাতা নেই। বিশ্বের বৃহত্তম হোটেল চেইন এয়ার-বিএনবির কোনো হোটেল নেই। এই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সার্ভিস সেক্টরে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০টির বেশি স্টার্টআপ কাজ করছে এবং আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশে বর্তমানে ৪০টিরও বেশি এক্সেলেরেটর ও ইনকিউবেটর প্রোগ্রাম তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্টার্টআপ দেশে প্রচুর বিনিয়োগ নিয়ে এসেছে, যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। স্টার্টআপের মাধ্যমে ১৫ লাখের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে ১৪২টি দেশে ক্যাম্পেইন শেষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৭টি দেশ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৭ হাজারের অধিক স্টার্টআপ ও উদ্ভাবক এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করে। সেরাদের সেরা একটি স্টার্টআপ ‘ওয়ান বিগ উইনার ২০২১’ হিসেবে পাচ্ছে ১ লাখ ডলারের অনুদান। এছাড়া দেশীয় স্টার্টআপ নিয়ে অনুষ্ঠিত রিয়েলিটি শো থেকে নির্বাচিত ২৬টি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সেরা ১০টি স্টার্টআপ, অর্থাত্ দেশি-বিদেশি নির্বাচিত মোট ৩৬টি স্টার্টআপের প্রতিটিই পাচ্ছে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার অনুদান।

রিয়েলিটি শো থেকে প্রাপ্ত সেরা ২৬ স্টার্টআপ হলো :টিঙ্কার’স টেকনোলজিস লিমিটেড, বণ্টন কানেক্ট, র?্যাডএসিস্ট, বইঘর, অলওয়েল বিডি লিমিটেড, ল্যান্ডনক লিমিটেড, ইনোভেইস টেকনোলজিস, লাইফস্প্রিং কনসালটেন্সি লিমিটেড, আইডিয়া থ্রি ডি সলিউশনস, ক্যাপ্টেন আর্থ, ওপেন রিফ্যাক্টরি, আপস্কিল, সাইকিওর অর্গানাইজেশন, প্লাস্টাইল, ব্রেইলি টেক লিমিটেড, ইনক্লুশন এক্স, স্মার্ট হোয়াইট কেইন, ডিঙ্গি টেকনোলজিস লিমিটেড, ঘোস্ট কিচেন বাংলাদেশ, অ্যান্টস এরিয়াল সিস্টেমস, আলো, সাইনটিকো ডটকম, খেলবেই বাংলাদেশ, জোবাইক, অনলাইন সহপাঠী ও রোবোল্যাব।

আন্তর্জাতিক সেরা ১০টি স্টার্টআপ হলো :থার্মো নর্থ, মাই ক্যাশ মানি পিটিই লিমিটেড, এগ্রোভিজিও, ইঙ্ক স্পায়ার্ড, ডব্লিউটিম, সোসো কেয়ার, গ্র্যান্ট মাস্টার, বায়ো মেক, ইভরেকা, কেয়ার ফর্ম ল্যাবস প্রাইভেট লিমিটেড।