ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট

পূজামণ্ডপে সহিংসতার সঙ্গে জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২১, ০০:২৮

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে, তার সঙ্গে জঙ্গিবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে মূর্তির পায়ের কাছে কোরআন রাখার দায়ে অভিযুক্ত ইকবাল একজন ভবঘুরে। ইকবালসহ অন্যদের গ্রেফতার করে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের সফল সমাপ্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। কুমিল্লার পূজামণ্ডপে মূর্তির পায়ের কাছে কোরআনের ছবি ফেসবুকে যে পোস্ট করেছিল, তার নাম সুজন। এই ছোট্ট ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে অন্তত ১৬টি জেলায় দ্রুত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। 

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওস্থ এফডিসিতে ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার’ নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এই ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আসাদুজ্জামান বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ আজ সারা বিশ্বে যে গুজব ছড়িয়ে পড়ছে, বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পারিবারিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারের মাধ্যমে তরুণ জনগোষ্ঠীকে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ফেসবুকে ছড়ানো গুজব তাদের বিপথগামী করতে না পারে।

তিনি আরো বলেন, অনেক মেধাবী সন্তানও ফেসবুকের কনটেনট দেখে উগ্র জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। জঙ্গিবাদী চক্র তাদের অপপ্রচার চালানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে বেছে নিয়েছে। যার মাধ্যমে তারা আজ অনেক তরুণকে বিপথগামী করছে। তবে জঙ্গিবাদের অপতত্পরতা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার ক্রমেই বেড়ে চলছে। অপপ্রচারকারীরা নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক, আইপি টিভি, অনলাইন পোর্টালসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নানা রকম পেজ, গ্রুপ, ইভেন্ট খুলে যে যার ইচ্ছেমতো নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হচ্ছে। তথাকথিত ব্রেকিং নিউজের নামে নানা গুজবের ভিডিও বানিয়ে গায়েবি খবর ছড়িয়ে সমাজে নানা রকম বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এর দায় এড়াতে পারে না। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা মোটেই ঠিক না।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার বিতার্কিকদের পরাজিত করে মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।