পূজামণ্ডপ, মন্দির, দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট এবং নিহতের ঘটনা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নোয়াখালী হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও চৌমুহনীর ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষ।
গতকাল শনিবার বিকালে বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে এ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিনয় কিশোর রায়। এ সময় বক্তব্য রাখেন ইসকনের অধ্যক্ষ রসপ্রিয় দাস, হামলার ঘটনায় নিহত যতন সাহার স্ত্রী লাকি সাহা, যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম দাস, বিজয়া দুর্গামন্দিরের সভাপতি তাপস সাহা প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির সদস্যসচিব পাপ্পু সাহা বলেন, সম্প্রতি নোয়াখালীর চৌমুহনীসহ সারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক কর্মকাণ্ড ও হত্যার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য তাদের হতবাক ও বিস্মিত করেছে। মন্ত্রীর এই বক্তব্য খুনি ও দুষ্কৃতকারীদের আড়াল করবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। মন্ত্রীর এই বক্তব্য হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনকে আরো আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, দেশে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় কেউ ধর্ষিত হননি এবং একটি মন্দিরেও অগ্নিসংযোগ কিংবা ধ্বংস করা হয়নি। ধর্মীয় সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মাত্র ছয় জন মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চার জন মুসলমান, আর তারা হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দুই জন হিন্দু মারা যান, তাদের মধ্যে এক জনের সাধারণ মৃত্যু হয়েছে এবং অন্যজন ডুবে মারা গেছেন।
