র্যাবের অভিযানে ঢাকার উত্তরা থেকে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। শনিবার বিকালে তাদের আটক করে র্যাব-১১ এর প্রধান কার্যালয় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে নিয়ে আসা হয়।
আটকরা হলেন- মো. জাহিদুল হাসান, খন্দকার বুলবুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও মো. মাসুদুর রহমান। রবিবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব এসব তথ্য জানায়।
র্যাব-১১ জানায়, চলতি বছরের ১৪ জুন তারিখে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে চিতাবাঘসহ আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের ২ সদস্যকে আটক করে র্যাব। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ১ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি থেকে তরিকুল ইসলাম নামে আরও এক পাচারকারীকে আটক করা হয়। আটককৃত তরিকুলের জবানবন্দি অনুযায়ী র্যাব-১১ ঢাকার উত্তরার আশকোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. জাহিদুল হাসান (৩২), খন্দকার বুলবুল ইসলাম (৩৪), রফিকুল ইসলাম (৪১) ও মো. মাসুদুর রহমানকে (২৯) আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ২টি বিরল প্রজাতির আমদানি নিষিদ্ধ টোকান পাখি ও একটি ইকলেকটাস প্যারোট পাখি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ২টি টোকান পাখির আনুমানিক মূল্য-৩০ লক্ষ টাকা ও ইকলেকটাস পাখির আনুমানিক মূল্য-১ লক্ষ টাকা হবে বলে জানায় র্যাব। আটককৃত পাখিগুলো বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের কর্মকর্তার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক গাজীপুরে সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, আটকরা বিদেশ থেকে পশুপাখি আমদানির আড়ালে বিমানবন্দরের সিএ্যান্ডএফের সঙ্গে সংঘবদ্ধভাবে আমদানি নিষিদ্ধ বিরল প্রজাতির পশুপাখি আমদানি করে পার্শ্ববর্তী দেশ সমূহে পাচার করে আসছে। গত ৮ মে যশোর থেকে উদ্ধার হওয়া ৯টি জেব্রা আটককৃত রফিকের পরিচালিত সিএ্যান্ডএফ ‘মতিন এ্যান্ড কো.’ এর মাধ্যমে বিমানবন্দর থেকে ছাড় করা হয়েছিল। এই চক্র বিভিন্ন সময় সাদা সিংহ, বিদেশি বানর, চিতা বাঘ, জেব্রাসহ বিরল প্রজাতির মূল্যবান পাখি আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে কৌশলে নিয়ে আসে এবং অধিক দামে পার্শ্ববর্তী দেশ সমূহে পাচার করে দেয়। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
