লামা পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ঝিরি বা খাল বেদখল ও ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারানোর পথে। ঝিরি বা খালের উভয় পাশের ভূমি মালিকগণ অবৈধভাবে জবর দখল করে ফেলায় এবং ভরাট হয়ে যাওয়ায় নিশ্চিহ্ন হবার পথে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই উত্সগুলো। ঝিরিগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পুরো বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয় পৌর নাগরিকদের। লামা পৌরসভায় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট তিনটি খাল রয়েছে। স্থানীয় ভাষায় এগুলোকে ঝিরি বলা হয়। এগুলো হলো মধুঝিরি খাল, নারকাটা ঝিরি খাল ও নয়াপাড়া খাল। মাতামুহুরী নদীর সঙ্গে এ তিনটি খালের সংযোগ। জোয়ার না থাকলেও এ সকল ঝিরি দিয়ে নিচের দিকে সার্বক্ষণিকভাবে পানি প্রবাহিত হওয়ার ধারা প্রকৃতিগতভাবে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ সকল খাল দিয়ে বর্ষায় পৌর এলাকায় পানি নিষ্কাশন হতো।
লামা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মমতাজুল ইসলাম জানান, লামা পৌর এলাকার তিনটি খাল অবৈধ জবর দখলকারীদের কারণে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। ঝিরিগুলোর গভীরতা ভরাট হয়ে গেছে। এখন বর্ষা মৌসুমে এ সকল ঝিরি দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে পানি নিষ্কাশন হয় না। সামান্য বৃষ্টিতেই লামা বাজারসহ উপজেলা কমপ্লেক্স ও সরকারি অফিস-আদালত পানিতে নিমজ্জিত হয়। জরুরি ভিত্তিতে এ সকল ঝিরি বা খাল পুনরুদ্ধার করে সংস্কার করা না হলে লামা পৌরসভা স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে।
লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম জানান, লামা পৌরসভার মধুঝিরি খালটি ৩.৮ কিলোমিটার। খালটির দুপাশ অনেকটা বেদখল হয়ে গেছে। এছাড়া গভীরতা নেই বললে চলে। নারকাটা ঝিরি ও নয়াপাড়া খালের একই করুণ দশা। বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনে এ সকল ঝিরি বা খালগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানান, লামা পৌরসভাসহ পুরো উপজেলার ছোট নদী, খাল ও জলাশয় সংরক্ষণে আমাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। জনগণের সচেতনতার মাধ্যমে এসকল প্রাকৃতিক উত্স সংরক্ষণ করা সম্ভব।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ৬৪ জেলায় ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের ১ম পর্যায়ের আওতায় লামা পৌরসভার মধুঝিরি খাল খননে ৯৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। শীঘ্রই বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।
