বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকার প্রধান নদীগুলোর সুরক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চলছে। একই সময়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর দুইপাড়েও চলছে অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিযান। কর্তৃপক্ষ বলছেন, এবার যেকোনো মূল্যে দেশের নদ-নদীগুলো দখল ও দূষণমুক্ত রাখা হবে। সেটা কি সম্ভব হবে? এ বিষয়ে টেলিফোন ও ই-মেইলে পাঠানো পাঠকের মতামত প্রকাশ করা হলো
নদীগুলো দখলমুক্ত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের লম্বা হাতে। দখলমুক্ত করার পর তারা আবার নদীর জায়গা দখল নিচ্ছে। অথচ দেখা যায় যে, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রায় ১৫টি মন্ত্রণালয় নদী দখল ও দূষণ রোধে নিয়োজিত আছে। বর্তমান সরকার বুড়িগঙ্গা নদীসহ দেশের নদীসমূহের নাব্য রক্ষায় ও নদী ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। মাঝে মাঝে দেখা যায়, নদী তীরের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়, কিন্তু পরের দিনই চলে পুনরায় দখলের মহাউত্সব। তাই শহরের ভিতরের সকল নদীরপাড় বাঁধাই করে জনসাধারণের জন্য পার্কের ব্যবস্থা করে নদী দখলের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।
সাবরিনা সুলতানা মিশু
ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিক্স, ঢাকা
প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কিছু অসাধু ব্যক্তি নদী দখল করে নদীগুলোকে মৃতপ্রায় করে ফেলেছে। শুধু নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই চলবে না, সেই উচ্ছেদকৃত জায়গাগুলোতে জনগণের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে করে পুনরায় আর দখল না হয়। এ বিষয়ে একটি উদাহরণ রয়েছে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্ট-এর মাঝ দিয়ে একটি নদী প্রবাহিত আছে, এই নদীর পাড়ে একটি কার্ডিও হাসপাতাল আছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই হাসপাতালে দু’বার চিকিত্সার জন্য গিয়েছিলেন। তাই এই নদীর পাড়ে একটি পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এই পার্কের নাম ‘টেগর মেমোরিয়াল পার্ক’। এভাবে আমাদের নদীগুলো দখলমুক্ত করে দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের নামে পার্ক স্থাপন করে জনগণের বিনোদনের ব্যবস্থা করলে আর অবৈধভাবে নদী দখল হবে না।
খন্দকার কামরুজ্জামান
৩৬৩/১০ উত্তর পীরেরবাগ, ওয়ার্ড-১৩, ঢাকা
শুধুই কি বুড়িগঙ্গা বা ঢাকার প্রধান নদীগুলো অবৈধ দখল হয়েছে? সারাদেশের অবৈধ নদী দখল চলেছে। বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র হয়ে বয়ে যাওয়া প্রমত্তা করতোয়া, আর নদী নেই। দখলে দূষণে করতোয়া এখন শহরে নালা হয়ে গেছে। সুতরাং আমাদের অবৈধ দখল হয়ে যাওয়া নদীগুলো দখলমুক্ত করে সেখানে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মো. শহীদুল ইসলাম
নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া
বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালুসহ দেশের অন্যসব নদ-নদীর পাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদও একই ধরনের নেওয়া দরকার।
এম. এ. জামান
থানা: কাশিয়ানা, গোপালগঞ্জ
এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মা নদী এই শীতে যেন মরা নদী। বুক জুড়ে ধূ ধূ বালুচর। কোথাও কোথাও কৃষকদের ফসল ফলানোর চেষ্টা মাত্র। গড়াই, চন্দনা, চিত্রা নদীরও একই দৃশ্য। কবি জীবনানন্দ দাশের প্রিয়তম নদী ধানসিঁড়ি এখন মরা খাল। দেশের বেশিরভাগ নদীর অবস্থা এমন দশা।
সুগন্ধী আক্তার
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
সরকারের সদিচ্ছা থাকলে নদী দখলে ও দূষণমুক্ত রাখা এবং সকল অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা সম্ভব। যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তখন সে দলের সমর্থক গোষ্ঠী রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে রাজনৈতিক শক্তিকে পেশিশক্তির হাতিয়ার ভেবে এই দখল কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া ভূমি অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দখলদাররা অতি সহজেই দীর্ঘদিন যাবত্ অনৈতিক উপায়ে এই সরকারি সম্পত্তি ভোগ দখল করে আসছে।
মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ
গ্রাম: সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ
অভিযান শেষ হলেই অবৈধ দখলকারীরা আবার স্থাপনা তৈরি করেছে। সুতরাং আমাদের মনে রাখতে হবে, সবার সম্মিলিত প্রয়াসই শুধু পারে আমাদের নদীগুলোকে রক্ষা করতে।
অ্যাড. এস. কে. মো. রমিজউদ্দিন
কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা
ঢাকার বাইরেও নদ-নদী দখল করছে। আগামীতে কেউ যেন নদ-নদী দখল করতে না পারে তার জন্য সরকারের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
ডা. গোপাল চন্দ্র পাল
রঘুনাথপুর, পালপাড়া, পাবনা বাজার
নদী দখল আমাদের দেশে বিভিন্নভাবে আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে। নদীতে কেবল বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা বা ঘর-বাড়ি নির্মাণ করেই দখল করা হচ্ছে না, নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করার জন্যও দখল হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের সক্রিয় এবং সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই আমরা সকল প্রকার নদী দখল থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি বলে আমাদের বিশ্বাস।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
নদী পরিবেষ্টিত আমাদের বাংলাদেশ, তাই নদী জীবন্ত সত্তা। সারাদেশে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরীসহ অসংখ্য ছোট-বড় নদী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। শুধু ঢাকা চট্টগ্রাম নয়, সারাদেশে অবৈধ দখলবাজদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী
নদী দূষণমুক্ত করা ও দখল প্রক্রিয়া বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে। পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।
অমিত বণিক
উত্তরা, ঢাকা
বুড়িগঙ্গা নদী বিশ্বের অন্যতম দূষিত নদীর তালিকায় স্থান পাওয়ার সাথে সাথে ঢাকা নগরী বিশ্বের অন্যতম বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে গত তিন বছর ধরে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালুনদী বেষ্টিত ঢাকার বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ও প্রকৃতির অপার দানে নিরাপদ আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরী হয়ে উঠার সব সম্ভাবনাই রয়েছে।
সাদিয়া সুলতানা মাহি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, ঢাকা
‘ন’-তে নদী, ‘ন’-তে নারী। নদীগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। আর নারী হলো ঘরের সৌন্দর্য। যে এলাকায় নদী নেই সে এলাকা মরু ভূমি। যে ঘরে নারী নেই, সেই ঘরও মূল্যহীন ও মরুভূমি। অথচ এ দুটো আজ মহাবিপদে আছে।
ডা. মোহাম্মদ জামিল রহমান
গোপালপুর, টাঙ্গাইল
নদ-নদী খাল বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে আইনগত অভিভাবক ঘোষণা দিয়েছে হাইকোর্ট। সে জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে আমরা মনে করি, এই নদী অবৈধ দখলমুক্ত করার পরেও তদারকি জোরদার করতে হবে।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
দেশের নদ-নদী রক্ষায় আদালতের রায়টি রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হবে এমনটিই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রামের নদীগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করলেই চলবে না। দেশের সকল বন্দরনগরী জাহাজঘাট এবং খেয়াঘাটকেও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।
শাহ মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন হিরো
কালিহাতি, টাঙ্গাইল
নদী দখলে উচ্ছেদের পর কার্যকর তদারকির অভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসে। সেজন্য উচ্ছেদের পর নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে।
পারভীন সুলতানা
রামচন্দ্রপুর, ঝিনাইদহ
জানা গেছে, এ পর্যন্ত পৃথিবীর ৪টি দেশ ইকুয়েডর, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও কলম্বিয়া কর্তৃক নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দেশে আদালতের রায়ের ফলে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ হবে পঞ্চম। সুতরাং, আমাদের প্রত্যাশা আমাদের দেশের নদ-নদীগুলো সত্যি একদিন দখল ও দূষণমুক্ত হবে।
চয়ন
কুতুবখালি, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা
বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানীর প্রধান নদীসহ চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর দুই পারের অবৈধ দখলদার মুক্ত করার অভিযান চলছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার যে কোনোমূল্যে দেশের নদ-নদীগুলোর দূষণমুক্ত রাখা হবে। বিষয়টি আশা জাগানিয়া। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, দুর্নীতির করালগ্রাসে বিষয়টি ভেস্তে যাবে না তো?
মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক নাছিম
চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
নদীগুলো অবৈধ দখলমুক্ত আগেও করা হয়েছে। কিন্তু শেষপর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। তাই এবার আমরা চাই, সরকারের জরুরি ও কঠোরভাবে এর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নদ-নদীগুলো দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে।
মো. হানিফ মিয়া
মনেশ্বর লেন, হাজারীবাগ, ঢাকা
শুধু বুড়িগঙ্গা নদী নয়, সারাদেশের নদীগুলো আজ বেদখলে চলে গেছে প্রভাবশালীদের কাছে। অবৈধ দখলমুক্ত করতে শুধু সরকার নয় দেশের সাধারণ মানুষকে ও জরুরিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
ফারুক আলম
মালিবাগ, ঢাকা
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত ৪০৫টি নদ-নদীর মধ্যে ৩৭টি সবচেয়ে বেশি দখল-দূষণের শিকার বলে তারা বলছেন। নদী কমিশন আইনের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদে ১৩ ধরনের কার্যাবলী নির্দেশ করা হয়েছে। কিন্তু সবই সুপারিশ বা পরামর্শমূলক। নদী সুরক্ষায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের কোনো নির্বাহী বা প্রায়োগিক ক্ষমতা নেই। সাম্প্রতিককালে মহামান্য হাইকোর্টের এক বেঞ্চ কলম্বিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের মতো আমাদের দেশের নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আমরা মনে করি দখলকারী ও দূষণকারীদের জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করে নির্দিষ্ট মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার ব্যবস্থা করা উচিত।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
নদীমাতৃক আমাদের দেশে বুড়িগঙ্গাসহ নদীসমূহকে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে নদীপাড়ের বাসিন্দা এবং প্রশাসন যদি সচেতন থাকে, কঠোর হয়। সর্বোপরি, ভূমিখেকোদের রুখতে হবে।
সালেহা আফরিন বেবী
শিবগঞ্জ, সিলেট
সম্প্রতি হাইকোর্ট সরকারকে নদ-নদী দখলবাজদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে, সেইসঙ্গে তাদেরকে যে কোনো ধরনের স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্য ও কোনো প্রকার ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও অযোগ্য বলে বিবেচিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাইকোর্টের এই রায়কে সরকার কার্যকরী করবেন বলে আমারা আশা করি।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হক ভিলা, মেরাদিয়া,
ঢাকা
অবৈধ দখলদারদের আগ্রাসী প্রয়াস আজ বুড়িগঙ্গার মতো প্রধান প্রধান নদীগুলোকেও ‘বুড়িয়ে’ দিয়েছে। কিন্তু নদীগুলো অবৈধ দখলমুক্ত রাখা অবশ্যই সম্ভব।
সুদীপ্ত বালা (অনন)
বি.এসসি. (ইইই), ইউনাইটেড
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
