পরকীয়ার বলি হয়েছিলেন সুমা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫২

স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিলো না সুমা রাণীর। এ কারণে প্রায় সাত মাস আগে ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ছেড়ে ছিলেন স্বামীর বাড়ি। এর মধ্যে বাপের বাড়ির এলাকার আলমগীরের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তার। শেষ পর্যন্ত সেই প্রেমের বলি হতে হলো সুমাকে।

সুমা রানী (২৫) শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার পুরাসন্দা গ্রামের নিরঞ্জন সরকারের মেয়ে। সুমা হত্যায় তার মা সন্ধ্যা রানী সরকার ১০ জানুয়ারি বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে এই হত্যার লোমহর্ষক তথ্য।

আটক করা হয় সুমার প্রেমিক আলমগীরকে। সে রাজিউড়া ইউনিয়নের ডুমরা গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে। 

পুলিশের জানায়, ‘বন্ধুদের ধর্ষণের সুযোগ না দেওয়ায় সুমাকে হত্যা করে আলমগীর। সুমাকে নিয়ে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে সেখানে তাকে ধর্ষণ করে আলমগীর। পরে তার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের ধর্ষণের সুযোগ দিতে অসম্মতি জানালে শাড়ির আঁচল পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সুমাকে। পরে তার পালিয়ে যায়।

আলমগীরের দেওয়া তথ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত একই ইউনিয়নের আকদপুরের মৃত ধলাই মিয়ার ছেলে জাহির মিয়াকে (৩৮) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম আজমিরুজ্জামান জানান, আলমগীর হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার ৩৯ দিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করা গেছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে জড়িত সকল আসামি গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো। 

উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি সুমা বোনের বাড়ি শৈলজুড়া বেড়াতে এসে নিখোঁজ হন। হত্যার দুইদিন পর ৬ জানুয়ারি চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ের মাধবপুর সীমান্তবর্তী এলাকার রতনপুর কবরস্থান সংলগ্ন বেত বাগানের বেতরে থেকে সুমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। 

আরো পড়ুন: ইজতেমায় যানবাহন চলাচলে ডিএমপি’র নির্দেশনা

ময়নাতদন্ত শেষে লাশের সনাক্ত না হওয়ায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমে রাজনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। ১০ দিন পর সুমার পিতা মাতা চুনারুঘাট থানায় যুবতীর ছবি ও পড়নের কাপড় চোপড় দেখে তাদের মেয়ে বলে সনাক্ত করেন।

নিহত সুমার মা বাদী হয়ে মেয়েকে খুনের অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের করলে ১০ জানুয়ারি আদালত ধর্মীয় মতে লাশ তুলে সৎকার করার নির্দেশ দেন। 

ইত্তেফাক/অনি