দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:০৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইকে প্রাধান্য দিচ্ছি। খাদ্য নিরাপত্তা, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, কর্মসংস্থান এগুলো মানুষের মৌলিক চাহিদা। প্রত্যেক মানুষই তার অবস্থার উন্নতি ঘটাতে চায়। আমাদেরকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাত্কারটি নেন ডয়চে ভেলের প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে তরুণদের সুযোগ করে দিতে চাই? তাই বর্তমান ও টানা তৃতীয় মেয়াদটিই যেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার শেষ মেয়াদ হয়? এর আগেও প্রধানমন্ত্রী হয়েছি? সব মিলিয়ে চতুর্থবার? আমি আর চাই না? একটা সময়ে এসে সবারই বিরতি নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি, যেন তরুণ প্রজন্মের জন্য জায়গা করে দেওয়া যেতে পারে?

উন্নয়ন এবং বাক স্বাধীনতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্ত চিন্তাকে আমি শতভাগ সমর্থন করি? সমালোচনাও তাই স্বাভাবিক? যত কাজ করবেন, তত সমালোচনা শুনবেন। আমার দেশের মানুষকে প্রশ্ন করুন, তাঁরা সন্তুষ্ট কিনা। তাঁদের যা যা প্রয়োজন, সব পাচ্ছে কিনা, কিংবা আমি সব দিতে পারছি  কিনা?

বিগত নির্বাচনের সমালোচনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই তো ক্ষমতায় আসা, সেটা একদলীয় হয় কী করে? আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, ২০০৮-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সে নির্বাচনেও ৮৪ ভাগ ভোট পড়েছিল? এবার তো ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে? তখন বিএনপি-জামায়াত জোট পেয়েছিল মাত্র ২৮টি সিট? এবার ইলেকশনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৬০টি সিট? বাকি সব অন্য দলগুলো পেয়েছে? সেখানে দল তো আছেই। তিনি বলেন, এখন কোনো দল যদি তাদের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে না যেতে পারে, জনগণের বিশ্বাস, আস্থা অর্জন করতে না পারে, আর যদি ভোট না পায়, সে দায়-দায়িত্ব কার? সে তো ঐ দলগুলোর দুর্বলতা?

মৌলবাদীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে শেখ হাসিনা বলেন, এখানে বাক স্বাধীনতা আছে? তাই যে কেউ যে কোনো কিছুই বলতে পারেন? নারীর বিকাশে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। সরকার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা পুরোপুরি অবৈতনিক করে দিয়েছে? তাদের বৃত্তিও দেওয়া হচ্ছে? তিনি বলেন, আগে বাবা মায়েরা চিন্তা করতেন যে মেয়েকে পড়িয়ে লাভ কী, সে তো অন্যের ঘরে চলে যাবে? এখন সেভাবে চিন্তা করেন না তাঁরা? এখন ভাবেন যে মেয়েকে শিক্ষিত করা উচিত যেন সে নিজে উপার্জন করতে পারে? এরপর সে বিয়ে করবে? খুব ধীরে ধীরে আমরা পরিবর্তন আনছি? বাল্যবিবাহ এখন অনেক কমে গেছে? এ বিষয়ে মৌলবাদীরা বাধা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই না?

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা দ্বীপ বেছে নিয়েছি? সেখানে আমরা বাঁধ দিয়েছি? সাইক্লোন শেল্টার ও ঘরবাড়ি তৈরি করেছি? আমরা তাদের সেখানে নিয়ে যেতে চাই এবং কাজ দিতে চাই? তাহলে তরুণ ও নারীরা অর্থ উপার্জন করতে পারবে? তবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়াকে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান বলে মনে করেন শেখ হাসিনা? তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই এই দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে যেতে চায় বাংলাদেশ? এক্ষেত্রে ভারত ও চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন? ইউরোপীয় ইউনিয়নও ভূমিকা রাখতে পারে? তিনি বলেন, আমরা কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না? আমাদের সাথে একটা চুক্তিও হয়েছে যে তারা ফেরত নিয়ে যাবে? চীন ও ভারতের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে অন্য যেসব দেশের বর্ডার আছে, সেই থাইল্যান্ড ও লাওস সকলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি যে কীভাবে এই সমস্যা সমাধানে তাদের কাজ করা উচিত?