প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের পয়েন্ট তালিকায় আবাহনী এবং বসুন্ধরা কিংস ঠেলাঠেলি করছে। কে কার আগে দৌড়ে যাবে, তা নিয়ে চলছে লড়াই। প্রিমিয়ার লিগের নবাগত দল বসুন্ধরা কিংস এখন সবার উপরে। এক ম্যাচ কম খেলে ৫ খেলায় ১৫ পয়েন্ট নিয়ে উপরে। ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে আবাহনী। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৬ খেলায় ১৫ পয়েন্ট। আবাহনী মূল্যবান ৩ পয়েন্ট হারিয়েছিল বসুন্ধরার কাছে।
আবাহনী লড়াই করছে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। আর বসুন্ধরা লড়াই করছে প্রথম আসরে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে। বসুন্ধরা কিংস এবং আবাহনী খুব সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলছে। আবাহনীর লক্ষ্য আর একটি পয়েন্টও নষ্ট করা যাবে না। আর বসুন্ধরা চায় যেভাবেই হোক এগিয়ে থাকা ধরে রাখতে হবে। গত বৃহস্পতিবার নীলফামারীতে বসুন্ধরা ১-০ গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে তারা আরো সাবধান হওয়ার জন্য তলের খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিয়েছে। পেনাল্টিতে সেই গোলটা না পেলে ভাগ্যে কি ছিল তা বুঝতে পারছেন দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজেন। তার দল প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে শক্তিশালী হলেও অস্কার ব্রুজেনর উপলব্ধি- যেকোনো দল গলার কাঁটা হয়ে উঠতে পারে। রহমতগঞ্জের ম্যাচের পর নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। সেদিন গোল মিসের মহড়া দিয়েছে নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামের মাঠে। বিশেষ করে রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলে আসা কোস্টারিকার ফুটবলার ডানিয়েল কলিন্দ্রেসের গোল মিসের মহড়া দলকে ভুগিয়েছে। উজবেক ফুটবলার বখতিয়ার সেদিন পেনাল্টিতে গোল করে ম্যাচ জিতিয়েছেন এবং প্রিমিয়ার লিগেও প্রথম গোল করেছেন। সুশান্ত ত্রিপুরা, ড্যানিয়ের কলিন্দ্রেস, নাসির চৌধুরী, ইমন বাবু, মতিন মিয়ারা গোল করে ম্যাচের পর ম্যাচ জিতিয়েছেন। কিন্তু যেসব গোল মিস হচ্ছে তা মেনে নেয়ার মতো মনে করছেন না বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ। মঙ্গলবার বসুন্ধরার খেলা বিজেএমসির বিপক্ষে, নোয়াখালীতে।
আবাহনীও খুব সতর্ক। তারাও একটা হারের পর ঝাঁকুনি খেয়েছে। নতুন কোনো অঘটন হতে দিতে চায় না। বিদেশি খেলোয়াড়দের বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। সেটা লিগের মাঝপথে। তা ছাড়া এএফসি কাপের খেলাও রয়েছে। এএফসি কাপ এবং লিগ এই দুটো মাথায় রেখে আবাহনী তাদের ফুটবল দলটাকে কিছু কিছু জায়গায় পরিবর্তন আনতে চায়। ঘরে রয়েছে ঘানাইয়ান ডিফেন্ডার সামাদ ইউসুফ। দীর্ঘদিন ঢাকার মাঠে খেলেছেন। প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুমে প্রথম দিকে ছিলেন না। দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। আবার ফিরেছেন সামাদ। দলের সঙ্গে আছেন। তাকেও দেখা যেতে পারে ফিরতি লিগে।
