৮৬ উপজেলায় নৌকার বিদ্রোহী ১১৩ জন

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:১৩

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিলেও প্রতি উপজেলায় গড়ে এক থেকে দুই জন করে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। প্রথম ধাপে ৮৬ উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীই আছেন ১১৩ জন। সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন কুড়িগ্রামে। এই জেলার ৯ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ৩১ জন। সুনামগঞ্জ জেলার ১০ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী ২৪ জন। এছাড়া রাজশাহীর ৯ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী ৬ জন, নাটোরের ৬ উপজেলায় ৭ জন, লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় ৯ জন, নেত্রকোণার ৯ উপজেলায় ৬ জন, জামালপুরের ৭ উপজেলায় ৮ জন, হবিগঞ্জের ৮ উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ৯ জন।

সূত্র জানায়, আপাতত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হলেও বিএনপি নির্বাচনে আসবে এটা ধরেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী থাকছেন সেটি নজরে রাখছে কেন্দ্র। এদিকে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান এবং আসন্ন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নতুন ৩৬ ওয়ার্ড নির্বাচনে কাউন্সিলর পদ উন্মুক্ত রেখেছে আওয়ামী লীগ। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে যদি নৌকার প্রার্থী না জেতে, তাহলে বিদ্রোহী প্রার্থী জিতবে। এই বিদ্রোহী তো আওয়ামী লীগেরই। এতে বিএনপির কী লাভ।

গতকাল ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, প্রার্থী হওয়ার আগে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে আমি কাউকে বিদ্রোহী প্রার্থী বলতে পারি না। আমরা দেখছি কারা কারা নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পরও বিদ্রোহ করে। এমন কেউ করলে বিষয়টি আমরা দেখব। এর জন্য প্রার্থিতা প্রত্যাহার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্ত নিলেও দলটির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা তা মানবেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হলেও বিএনপি নির্বাচনে আসবে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নতুন ৩৬ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখেছে আওয়ামী লীগ। দল সমর্থিত একক কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করতে প্রথমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ৩৬টি ওয়ার্ডে ৮শ’ সমর্থন প্রত্যাশীর সাক্ষাত্কারও নেওয়া হয়েছিল। পরে সংক্ষিপ্ত খসড়া তালিকা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, যেহেতু ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, সেটাও উম্মুক্ত থাকতেই পারে। কিন্তু উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদগুলো উন্মুক্ত করে দিয়েছি, যেন সেখানে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকে।

উল্লেখ্য, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৮৭টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে রাজশাহীর পবা উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী এসব উপজেলায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। আগামী ১০ মার্চ এ ৮৬ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শামীম। এখানে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাচ্ছিরুল ইসলাম। লাখাইয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিউল আলম আজাদ। বিদ্রোহী মাহফুজুল আলম মাহফুজ ও রফিক আহমেদ। চুনারুঘাটে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবদুল কাদির লস্কর। বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু তাহের।

এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় জেলা যুবলীগের সদস্য ছফির উদ্দিন ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন ইমন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল আলম নিক্কু, যুবলীগের অ্যাডভোকেট বুরহান উদ্দিন দোলন, দোয়ারাবাজারে ফরিদ আহমদ তারেক, দেওয়ান তানভীর আশরাফী চৌধুরী বাবু, দেওয়ান আবুল হোসেন মাহমুদ রাজা চৌধুরী, ছাতকে অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, আওলাদ আলী রেজা, দিরাইয়ে আলতাব উদ্দিন, মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী, রঞ্জন রায়, শাল্লায় অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস, ধর্মপাশায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ বিলকিস, আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হোসেন রোখন, পঞ্চগড়ের বোদায় সায়েদ জাহাঙ্গীর হাসান সবুজ, আবদুল জব্বার, মো. আজাহার আলী, তেঁতুলিয়ায় ফরিদা আখতার হীরা প্রমুখ।

জানা গেছে, কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন বিদ্রোহীরা। কেন্দ্র বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত না নিলে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৬ প্রার্থী বদল

মনোনয়ন দেওয়ার পরও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় উপজেলায় এ পর্যন্ত ৬ জন প্রার্থী বদল করা হয়েছে। প্রথম দুই ধাপের নির্বাচনের জন্য ২০৯ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম ঘোষণা হয়েছে, তাদের মধ্যে আরও অন্তত ১০ জন বাদ পড়তে যাচ্ছেন বলে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপলও ছিলেন। সুনামগঞ্জ শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি চপলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা রয়েছে। বুধবার রাতে তাকে বাদ দিয়ে তার জায়গায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোবারক হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কী কারণে চপলকে বাদ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ বলেন, বাদ দেওয়ার মধ্যে অনেকগুলো কারণ আছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই বাদ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রাপ্তদের বিষয়ে এখনও যাচাই-বাছাই চলছে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন।