চট্টগ্রামে থামানো যাচ্ছে না ইয়াবা ব্যবসা। প্রায় প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ইয়াবার চালানসহ মাদক বহনকারীরা ধরা পড়ছে। নিত্য নতুন কায়দা-কৌশল অবলম্বন করে ইয়াবা পাচার অব্যাহত রয়েছে। অধিক লাভের আশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, বেকার যুবক, পুলিশ, পরিবহন ব্যবসায়ী এমনকি মসজিদের ইমামরাও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কক্সবাজারে পিকনিক করতে গিয়ে ফেরার সময় ইয়াবা নিয়ে ফিরছেন অনেকে। গত সপ্তাহে এরকম দু’টি পিকনিক বাস থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সৈকত শহরে সিনেমার শুটিং করতে গিয়েও ইয়াবার হাতছানি উপেক্ষা করতে পারছেন না অনেকে। অভিনেত্রী, মডেল গার্লদের তল্লাশি করে ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের একটি অংশ এই নিষিদ্ধ ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আশ্রয় শিবির থেকে বের হয়ে সীমান্তের ওপার থেকে ইয়াবা এনে এপারে সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিচ্ছে তারা।
জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ব্যবসার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা হলেও চট্টগ্রামকে ব্যবহার করা হয় ল্যান্ডিং স্টেশন হিসেবে। বড় চালানগুলো চট্টগ্রামে আনার পর তা হাতবদল হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। আড়ালে থেকেই দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা কলকাঠি নাড়ছেন। কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করলেও চট্টগ্রামে এখনো এধরনের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক শ্রেণির পুলিশ সদস্যের যোগসাজশ পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। লোভে পড়ে পুলিশ বিভাগের কতিপয় সদস্য ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। গত বছর চট্টগ্রামে সাত পুলিশ সদস্যকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি- সাঁড়াশি অভিযানের কারণে চট্টগ্রামে ইয়াবা ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। কারণ বর্তমানে কক্সবাজারভিত্তিক সিন্ডিকেট অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, কিছুদিন আগে পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্পটে উন্মুক্ত কাউন্টারের মাধ্যমে ইয়াবা বিক্রি হতো। এখন সেসব পয়েন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। অনেকে কারাগারে আছে। কিছুদিন আগে মালয়েশিয়া পালানোর সময় জুবায়ের গ্রেফতার হয়। গত বছর নগরীর হালিশহরের একটি বাসা থেকে ১৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার মামলার আসামি এই জুবায়ের।
