শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ডাকাবর অঞ্চলে মহারশি নদীর একটি ব্রিজের অভাবে ১০ গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মানের দাবি দীর্ঘদিনের। বহু প্রতীক্ষার পরও নির্মিত হয়নি ব্রিজটি।
ডাকাবর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দিন, শহিদুল ইসলামসহ গ্রামবাসীরা জানান, ‘নির্বাচনের সময় এ নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মানের আশ্বাস দিয়ে প্রার্থীরা শুধু গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ভোট নেয়। কিন্তু নির্বাচনের পর কোন জনপ্রতিনিধি আর তাদের খোঁজ-খবর নেয় না। ফলে আশ্বাস পাওয়া গেলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া এ ব্রিজের পূর্বপাশে রাস্তাটির বেহালদশা।’
জানা যায়, ডাকাবর থেকে মরিয়মনগর, ভারুয়া, বাঐবাধা, মানিককুড়া, ধোপাকুড়া হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্ক পর্যন্ত ৯কিলোমিটার রাস্তা। বিভিন্ন সময় এ নদীর ওপর একটি ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণের প্রস্তুতিও নেয় স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিবিদদের আধিপত্য বিস্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজও তা নির্মিত হয়নি। ফলে স্কুল, কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু পারাপারে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে কৃষকদের।
ডাকাবর গ্রামের সেলিম শাহী জানান, ‘নদীর ওপর একটি ব্রিজ না থাকায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদর বাজার ও স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি কাঁদা, পানি আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ সময় পথচারীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। ব্রিজের অভাবে অনেক সময় নৌকাযোগে পারাপার হতে হয়। আবার কোন কোন সময় গ্রামবাসীদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করে থাকে গ্রামবাসীরা। এ সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় পথচারীদের। এ নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ ও রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে পথচারীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। মধুটিলা ইকোপার্কে দর্শনার্থীদের আগমন বৃদ্ধি পাবে। সরকারের ঘরে আসবে বিপুল পরিমানে রাজস্ব।’
এ রাস্তাটির বেহাল দশা ও ব্রিজ নির্মাণের অভাবে জন দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেছেন নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফর্সা। তিনি বলেন, ‘এ ব্রিজ ও রাস্তাটি নির্মানের বিষয়ে উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোন কাজে আসেনি।’
আরও পড়ুনঃ সৈয়দ আশরাফের বোন সৈয়দা জাকিয়া নূরের শপথ গ্রহণ
উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ নদীর উপর একটি ব্রিজ ও রাস্তাটি নির্মাণের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করা হয়েছে। বরাদ্দ এলে নির্মাণ করা হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু

