প্রমিজ ডে
ঊর্মি :তুমি না প্রমিজ করেছিলে, অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকাবে না।
আসাদ :আমি অন্য মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি? এটা বলতে পারলে? যাও, আজ প্রমিজ ডে তে প্রমিজ করলাম।
উর্মি :কী প্রমিজ, আর কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে তাকাবে না?
সুমন :প্রমিজ করলাম, আজ থেকে আর কোনো প্রমিজই করব না।
আজ বেকার বলে
দর্শনার্থী :একটা চাকরীর জন্য এসেছিলাম, আমার জন্য কিছু করা যায়, স্যার?
অফিসের এমডি :আমাদের অফিসের রুল খুব কড়া। এখানে অফিসে ঢোকার টাইম আছে, বের হওয়ার টাইম নেই। তাছাড়া ...
দর্শনার্থী :থাক, আর বলতে হবে না। যা বোঝার এতেই বুঝে গেছি।
অফিসের এমডি :কী বুঝেছেন?
দর্শনার্থী :চাকরি দেবেন না, ভালো কথা। আজ বেকার বলে যা খুশি তাই শুনিয়ে দেবেন?
দূষণে ঢাকা, ঢাকা শহর
প্রথম বন্ধু :জানিস, ঢাকা শহর নাকি পৃথিবীর দ্বিতীয় দূষিত শহর!
দ্বিতীয় বন্ধু :এতে অবাক হওয়ার কী আছে? এটা তো আমাদের পূর্বপুরুষেরা আগে থেকেই আন্দাজ করতে পেরেছিল।
প্রথম বন্ধু :কী বলিস এসব?
দ্বিতীয় বন্ধু :ঠিকই বলি। তোর কী মনে হয় ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই এই শহরের নাম ‘ঢাকা’ রেখেছিল?
পরীক্ষার প্রস্তুতি
সামনে পরীক্ষা। মেয়ে একটার পর একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছে বাবাকে।
বাবা :কীরে, দুইদিন পর পরীক্ষা। এখনো জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছিস, এই অংক কেমন করে করব? এটার ট্রান্সলেশনটা বলে দাও। আমরাও তো পরীক্ষা দিয়েছি, ছোটবেলায় বাবার কাছে তো এত প্রশ্ন করিনি।
মেয়ে :ইশ, তাই যদি করতে তাহলে তো আজ আমার দু-একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতে।
লোকাল বাস চলছে
যাত্রী :কী হলো ড্রাইভার, গরুর গাড়ির মতো চালাচ্ছ কেন? আমাদের সময়ের কি দাম নেই?
বাস ড্রাইভার :জীবনের চেয়ে সময়ের মূল্য অনেক বেশি। একটা অ্যাক্সিডেন্ট হলে কী হবে, সেই চিন্তা আছে?
(একটু পরেই পিছনে সেই কোম্পানির আরেকটা বাস আসতেই বাস প্রচণ্ড বেগে ছুটতে শুরু করল)
যাত্রী :কী ব্যাপার, এখন এত জোরে চালাচ্ছ যে? জীবনের দাম কমে গেল?
বাস ড্রাইভার :সেইটা না, তয় জীবনে টাকার দাম তারচেয়েও বেশি।
বিশাল নেতা হয়
স্যার :যারা তোমার মতো ভুলভাল ইংরেজি, বাংলা মিশিয়ে কথা বলে তারা বড় হয়ে কী হয় জানো?
ছাত্র :জানি স্যার, তারা বড় হয়ে বিশাল নেতা হয়।
বই কিনবে কে?
v বন্ধু :কিরে দোস্ত, বইমেলায় খালি হাঁটাহাঁটি করছিস, কোনো বই কিনবি না?
লেখক :আমি কিনতে যাব কেন? আমি তো লেখক।
বন্ধু :তো কী হয়েছে? তুই লেখক বলে অন্য লেখকদের বই কিনবি না?
লেখক :কী যে বলিস না, আমার সমকক্ষ কোনো রাইটার আছে?
v বন্ধু :এবারের বইমেলায় বই কিনবি না?
প্রকাশক :আমি কিনতে যাব কেন? আমি তো প্রকাশক।
বন্ধু :তো, কী হয়েছে? প্রকাশকদের বই কেনায় বারণ আছে?
প্রকাশক :নাহ, তোর তো দেখি প্রকাশকদের সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। আমাকে কিনে পড়তে হবে কেন? পাণ্ডুলিপি পড়ার সময় পাই না, আবার বই?
v বন্ধু :কিরে দোস্ত, প্রতিদিনই শুনি বইমেলায় যাস। কই, কোনো বই তো কিনতে দেখি না।
বিক্রেতা :আমি কিনুম কেন? আমি নিজেই তো স্টলে বইসা বই বিক্রি করি।
বন্ধু :বই বিক্রি করলে, কেনা যাবে না?
বিক্রেতা :আরে ছাগল কয় কী? আমি তো স্টলে বইসাই সব বই পড়তে পারি। আমার বই কেনা লাগে?
v বন্ধু :চল দোস্ত, বইমেলায় বই কিনতে যাই।
পাঠক :চল যাই। কিন্তু বই কিনতে হবে কেন? এই দেখ ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলাম, বইমেলাতে ঢোকা মাত্রই বইসহ লেখক সুরসুর করে আমার কাছে আসা শুরু করবে।
বন্ধু :কী স্ট্যাটাস দিলি রে?
পাঠক :লিখলাম, ‘বইমেলায় আসছি, ফুড কোর্টে থাকব। কোন কোন রাইটার আছেন, ইনবক্সে আওয়াজ দেন।’
ভ্যালেন্টাইন ডেতে পার্কে বসে প্রেমিক-প্রেমিকার ডেটিং
v প্রেমিকা :আজ পর্যন্ত কোনো ছেলে আমার এত কাছে আসেনি, জানো?
প্রেমিক :বলো কী? এতটা অবহেলায় ছিলে?
v মেয়েটি :তুমি কি জানো, তুমিই প্রথম কোনো ছেলে যে আমার ঠোঁটে চুমু খেল?
ছেলেটি :আয় হায়, এত বদ ছেলেদের সাথে মিশতে?
v প্রেমিকা :সুন্দরী মেয়ে দেখলেই তুমি ভুলে যাও যে, আমার সাথে প্রেম করছ।
প্রেমিক :এটা ভুল কথা। তখনি আরও বেশি করে আফসোস বেড়ে তোমার কথা মনে পড়ে।
v প্রেমিক :ওগো, তোমাকে একটু ধরে বসি?
প্রেমিকা :তোমরা ছেলে জাতটাই এমন। সম্পর্ক শুরু হতে না হতেই ধরাধরির চিন্তা শুরু করো।
প্রেমিক :ছেলেরা সব সময় পরোপকারী। তাই, হাল ধরতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
বাণী
v বই আর বউ-এর সামনে মুখ খোলে বোকারা।
v বই আর বউ-এর মধ্যে সবচেয়ে মিল কোথায় জানেন? এরা নিমিষে পাল্টে দিতে পারে একটা জীবন।
আসল লক্ষ্যের পথে
ভাগ্নে :পেপারে কী এত মনোযোগ দিয়ে পড়ছ মামা?
মামা :মাধ্যমিকে এসে ছেলেদের ঝরে পড়া বেড়েছে—ব্যাপারটা খুব আশঙ্কাজনক।
ভাগ্নে :আশঙ্কাজনক হবে কেন, ঠিকই তো করছে।
মামা :কী করে?
ভাগ্নে :মাধ্যমিকে এসে তারা বুঝতে পারছে, জীবনের আসল লক্ষ্য কী?
মামা :আসল লক্ষ্য কী?
ভাগ্নে :আসল লক্ষ্য হলো টাকা ইনকাম করা। তাই পড়াশোনা করে সারাজীবন ধরে চাকরির পিছনে ছুটে স্যার স্যার করার চাইতে নিজের পথ নিজেই আগে ভাগে ঠিক করে নিচ্ছে।
কার্টুন মেনন খান
