জো ক স

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৬

প্রমিজ ডে

 

ঊর্মি :তুমি না প্রমিজ করেছিলে, অন্য কোনো মেয়ের দিকে তাকাবে না।

আসাদ :আমি অন্য মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি? এটা বলতে পারলে? যাও, আজ প্রমিজ ডে তে প্রমিজ করলাম।

উর্মি :কী প্রমিজ, আর কোনোদিন কোনো মেয়ের দিকে তাকাবে না?

সুমন :প্রমিজ করলাম, আজ থেকে আর কোনো প্রমিজই করব না। 

আজ বেকার বলে

দর্শনার্থী :একটা চাকরীর জন্য এসেছিলাম, আমার জন্য কিছু করা যায়, স্যার?

অফিসের এমডি :আমাদের অফিসের রুল খুব কড়া। এখানে অফিসে ঢোকার টাইম আছে, বের হওয়ার টাইম নেই। তাছাড়া ...

দর্শনার্থী :থাক, আর বলতে হবে না। যা বোঝার এতেই বুঝে গেছি।

অফিসের এমডি :কী বুঝেছেন?

দর্শনার্থী :চাকরি দেবেন না, ভালো কথা। আজ বেকার বলে যা খুশি তাই শুনিয়ে দেবেন? 

 

দূষণে ঢাকা, ঢাকা শহর

প্রথম বন্ধু :জানিস, ঢাকা শহর নাকি পৃথিবীর দ্বিতীয় দূষিত শহর! 

দ্বিতীয় বন্ধু :এতে অবাক হওয়ার কী আছে? এটা তো আমাদের পূর্বপুরুষেরা আগে থেকেই আন্দাজ করতে পেরেছিল।

প্রথম বন্ধু :কী বলিস এসব? 

দ্বিতীয় বন্ধু :ঠিকই বলি। তোর কী মনে হয় ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই এই শহরের নাম ‘ঢাকা’ রেখেছিল? 

 

পরীক্ষার প্রস্তুতি

সামনে পরীক্ষা। মেয়ে একটার পর একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছে বাবাকে।

বাবা :কীরে, দুইদিন পর পরীক্ষা। এখনো জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছিস, এই অংক কেমন করে করব? এটার ট্রান্সলেশনটা বলে দাও। আমরাও তো পরীক্ষা দিয়েছি, ছোটবেলায় বাবার কাছে তো এত প্রশ্ন করিনি। 

মেয়ে :ইশ, তাই যদি করতে তাহলে তো আজ আমার দু-একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতে।

 

লোকাল বাস চলছে

যাত্রী :কী হলো ড্রাইভার, গরুর গাড়ির মতো চালাচ্ছ কেন? আমাদের সময়ের কি দাম নেই?

বাস ড্রাইভার :জীবনের চেয়ে সময়ের মূল্য অনেক বেশি। একটা অ্যাক্সিডেন্ট হলে কী হবে, সেই চিন্তা আছে?

(একটু পরেই পিছনে সেই কোম্পানির আরেকটা বাস আসতেই বাস প্রচণ্ড বেগে ছুটতে শুরু করল)

যাত্রী :কী ব্যাপার, এখন এত জোরে চালাচ্ছ যে? জীবনের দাম কমে গেল?   

বাস ড্রাইভার :সেইটা না, তয় জীবনে টাকার দাম তারচেয়েও বেশি।      

 

বিশাল নেতা হয়

স্যার :যারা তোমার মতো ভুলভাল ইংরেজি, বাংলা মিশিয়ে কথা বলে তারা বড় হয়ে কী হয় জানো? 

ছাত্র :জানি স্যার, তারা বড় হয়ে বিশাল নেতা হয়।

 

বই কিনবে কে?

v বন্ধু :কিরে দোস্ত, বইমেলায় খালি হাঁটাহাঁটি করছিস, কোনো বই কিনবি না?

লেখক :আমি কিনতে যাব কেন? আমি তো লেখক।  

বন্ধু :তো কী হয়েছে? তুই লেখক বলে অন্য লেখকদের বই কিনবি না? 

লেখক :কী যে বলিস না, আমার সমকক্ষ কোনো রাইটার আছে?

 

v বন্ধু :এবারের বইমেলায় বই কিনবি না?

প্রকাশক :আমি কিনতে যাব কেন? আমি তো প্রকাশক। 

বন্ধু :তো, কী হয়েছে? প্রকাশকদের বই কেনায় বারণ আছে?

প্রকাশক :নাহ, তোর তো দেখি প্রকাশকদের সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই। আমাকে কিনে পড়তে হবে কেন? পাণ্ডুলিপি পড়ার সময় পাই না, আবার বই?

 

v বন্ধু :কিরে দোস্ত, প্রতিদিনই শুনি বইমেলায় যাস। কই, কোনো বই তো কিনতে দেখি না।

বিক্রেতা :আমি কিনুম কেন? আমি নিজেই তো স্টলে বইসা বই বিক্রি করি।

বন্ধু :বই বিক্রি করলে, কেনা যাবে না?  

বিক্রেতা :আরে ছাগল কয় কী? আমি তো স্টলে বইসাই সব বই পড়তে পারি। আমার বই কেনা লাগে?

 

v বন্ধু :চল দোস্ত, বইমেলায় বই কিনতে যাই।

পাঠক :চল যাই। কিন্তু বই কিনতে হবে কেন? এই দেখ ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলাম, বইমেলাতে ঢোকা মাত্রই বইসহ লেখক সুরসুর করে আমার কাছে আসা শুরু করবে।  

বন্ধু :কী স্ট্যাটাস দিলি রে?  

পাঠক :লিখলাম, ‘বইমেলায় আসছি, ফুড কোর্টে থাকব। কোন কোন রাইটার আছেন, ইনবক্সে আওয়াজ দেন।’    

 

ভ্যালেন্টাইন ডেতে পার্কে বসে প্রেমিক-প্রেমিকার ডেটিং

v প্রেমিকা :আজ পর্যন্ত কোনো ছেলে আমার এত কাছে আসেনি, জানো?

প্রেমিক :বলো কী? এতটা অবহেলায় ছিলে?

 

v মেয়েটি :তুমি কি জানো, তুমিই প্রথম কোনো ছেলে যে আমার ঠোঁটে চুমু খেল?   

ছেলেটি :আয় হায়, এত বদ ছেলেদের সাথে মিশতে?  

 

v প্রেমিকা :সুন্দরী মেয়ে দেখলেই তুমি ভুলে যাও যে, আমার সাথে প্রেম করছ।

প্রেমিক :এটা ভুল কথা। তখনি আরও বেশি করে আফসোস বেড়ে তোমার কথা মনে পড়ে।

 

v প্রেমিক :ওগো, তোমাকে একটু ধরে বসি?

প্রেমিকা :তোমরা ছেলে জাতটাই এমন। সম্পর্ক শুরু হতে না হতেই ধরাধরির চিন্তা শুরু করো।

প্রেমিক :ছেলেরা সব সময় পরোপকারী। তাই, হাল ধরতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।  

 

বাণী

v বই আর বউ-এর সামনে মুখ খোলে বোকারা।

v বই আর বউ-এর মধ্যে সবচেয়ে মিল কোথায় জানেন? এরা নিমিষে পাল্টে দিতে পারে একটা জীবন।

আসল লক্ষ্যের পথে

 

ভাগ্নে :পেপারে কী এত মনোযোগ দিয়ে পড়ছ মামা?

মামা :মাধ্যমিকে এসে ছেলেদের ঝরে পড়া বেড়েছে—ব্যাপারটা খুব আশঙ্কাজনক।

ভাগ্নে :আশঙ্কাজনক হবে কেন, ঠিকই তো করছে।

মামা :কী করে?

ভাগ্নে :মাধ্যমিকে এসে তারা বুঝতে পারছে, জীবনের আসল লক্ষ্য কী?

মামা :আসল লক্ষ্য কী?

ভাগ্নে :আসল লক্ষ্য হলো টাকা ইনকাম করা। তাই পড়াশোনা করে সারাজীবন ধরে চাকরির পিছনে ছুটে স্যার স্যার করার চাইতে নিজের পথ নিজেই আগে ভাগে ঠিক করে নিচ্ছে। 

 

কার্টুন মেনন খান