একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি-জাপা, ওয়ার্কার্স পার্টি ও স্বতন্ত্র সব মিলিয়ে বৈধ ৪৯ জন প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন। রবিবার চূড়ান্ত ঘোষণা শেষে নির্বাচিতদের নাম-ঠিকানাসহ ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, শনিবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় এই ৪৯ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে সাংসদ হিসেবে শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৪ মার্চ সংরক্ষিত মহিলা আসনে ভোট গ্রহণ নির্ধারিত হলেও ৪৯টি আসনেই একক প্রার্থী থাকায় এই ভোট গ্রহণের দরকার হচ্ছে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে আসন পাওয়ার আনুপাতিক হারে এবার আওয়ামী লীগ ৪৩টি, জাপা ৪টি, ওয়ার্কার্স পার্টি একটি ও স্বতন্ত্র জোট একটি আসন পেয়েছেন। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আট প্রার্থী শপথ না নেওয়ায় তাদের কোটার একটি সংরক্ষিত আসনের তফসিল এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ৪৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর একক মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের বিজয়ী ৪৩ জন হলেন- ঢাকা থেকে সুবর্ণা মুস্তফা, শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা ও নাহিদ ইজহার খান। চট্টগ্রাম থেকে খাদিজাতুল আনোয়ার ও ওয়াশিকা আয়েশা খানম; কক্সবাজার থেকে কানিজ ফাতেমা আহমেদ, খাগড়াছড়ি থেকে বাসন্তী চাকমা, কুমিল্লা থেকে আঞ্জুম সুলতানা ও আরমা দত্ত; ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজীপুর থেকে শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও রুমানা আলী। বরগুনা থেকে সুলতানা নাদিরা, জামালপুর থেকে মিসেস হোসনে আরা, নেত্রকোনা থেকে হাবিবা রহমান খান (শেফালী) ও জাকিয়া পারভীন খানম; পিরোজপুর থেকে শেখ এ্যানী রহমান, টাঙ্গাইল থেকে অপরাজিতা হক, সুনামগঞ্জ থেকে শামীমা আক্তার খানম, মুন্সিগঞ্জ থেকে ফজিলাতুন নেসা, নীলফামারী থেকে রাবেয়া আলীম, নরসিংদী থেকে তামান্না নুসরাত বুবলী, গোপালগঞ্জ থেকে নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহ থেকে মনিরা সুলতানা, ঝিনাইদহ থেকে মোছাঃ খালেদা খানম, বরিশাল থেকে সৈয়দা রুবিনা মিরা, পটুয়াখালী থেকে কাজী কানিজ সুলতানা, খুলনা থেকে গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, টাঙ্গাইল থেকে খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, দিনাজপুর থেকে জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালী থেকে ফরিদা খানম (সাকী), ফরিদপুর থেকে রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়া থেকে সৈয়দা রাশেদা বেগম, মৌলভীবাজার থেকে সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহী থেকে আদিবা আনজুম মিতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, শরিয়তপুর থেকে পারভীন হক সিকদার, রাজবাড়ী থেকে খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, মাদারীপুর থেকে তাহমিনা বেগম, পাবনা থেকে নাদিয়া ইয়াসমিন জলি ও নাটোর থেকে রত্না আহমেদ।
একইদিন জাপার চারজন সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে ইসিতে আসেন দলটির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। বিজয়ীরা হলেন, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরি, চেয়ারম্যান এর উপদেষ্টা অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আকতার। এছাড়াও ওয়ার্কার্স পার্টির বিজয়ী হলেন লুত্ফুন নেসা খান। তিনি দলটির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননের স্ত্রী। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে নারী আসনে বিজয়ী হয়েছেন সেলিনা ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের স্ত্রী।
