জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, ‘যারা নদীর জমি দখল করেছে, নদীর জমি দখলে যারা সহায়তা করেছে, নদীর জমি ব্যক্তির নামে যারা আরএস মাঠ পর্চা করে দিয়েছে তাদের কেউ ছাড় পাবে না। প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে। নদীর তীর দখলকারীদের যাতে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে দখলদারিত্ব দীর্ঘায়িত করতে না পারে সেই দিক লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।’
তিনি নদী দখলকারীদের নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘নদী দখলকারীদের নাৎসি বাহিনীর মত ঘৃণিত। তাদেরকে ঘৃণা করতে হবে।’
তিনি শনিবার বিকেলে বগুড়া সার্কিট হাউসে বগুড়ার নদী দখল, পানি দূষণ, অবস্থার পর্যালোচনা এবং উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বগুড়া জেলা নদী রক্ষা কমিটি ও নদী বাঁচাও বগুড়ার যৌথ আয়োজনে এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আন্দোলন এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি আরও বলেন হাইকোর্ট যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে তাতে দেশের মানুষ খুশি হয়েছে। নদীকে বাঁচানোর জন্য, নদীর প্রবাহকে বাঁচানোর জন্য এই রায় গুরুত্বপর্ণ। নদী রক্ষা করার জন্য প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব নদী দখলকারীদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এমনভাবে তালিকা করতে হবে যাতে কেউ পার না পায়। যদি কেউ পার পায়, তবে তার দায়িত্ব তালিকা প্রস্তুতকারীকে নিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে হাইকোর্টের সামনে দাঁড়াতে হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘সিএস পর্চা অনুযায়ী নদী উদ্ধার করা হবে। নদী আইন অনুযায়ী নদীর পাড় যদি ভেঙ্গে যায় তবে যে অংশ ভেঙ্গে নদী গর্ভে যাবে সেই অংশও নদীর বলে গণ্য হবে।’ তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শও দেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মো. আলাউদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ড. এনামুল হক, পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, বগুড়া পৌরসভার মেয়র এড.একেএম মাহবুবর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য্য শংকর প্রমুখ।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে কয়েকটি বড় দলের অংশ না নেয়া হতাশাজনক: সিইসি
এর আগে বেলা’র পক্ষে উপস্থাপনা করেন রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক তন্ময় স্যান্যাল। করতোয়া নদীর সার্বিক বিষয় উপস্থাপনা করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ। বাপা’র সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রায়হানা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আব্দুস সামাদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল মালেক, সহকারি কমিশনার (ভূমি) তমাল হোসেন, বাপা’র সভাপতি আনোয়ারুল করিম দুলাল, বাপা নেতা অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, বিআইআইটি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন সৈকত, মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
ইত্তেফাক/কেকে
