আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের
সূর্য ডুবে কোথায় যায় রে যুবায়ের? বঙ্গোপসাগরের নিচে যায় বন্ধু। তোরে কইছে? হুম, দোস্ত আমি একবার গিয়েছিলাম কক্সবাজার, দেখলাম সূর্য ডুবে সাগরের নিচে চলে গেল। সূর্যের বাসা অনেক বড়, তাই উদয় হওয়ার সময় কুয়াকাটা থেকে উদয় হয়। তবে সূর্যটা বাংলাদেশের সম্পদ, কারণ উদয় হয় বাংলাদেশে অস্তও যায় বাংলাদেশে। হা হা হা...! অট্টহাসিতে সবার সুন্দর চেহারাগুলো লাল হয়ে গেল। শুভ্রা, রকিব, নুপুর, রাশিদা, হেমা ও বাপ্পি চিত্কার করে বললো সূর্য যেহেতু রাতে কক্সবাজার থাকে, চলো তাইলে কক্সবাজার গিয়ে সূর্যের সাথে রাত কাটাই। হুম, চলো। শুরু হলো অল্প স্বল্প পরিকল্পনা। যাওয়ার প্রস্তুতি।
১১ জানুয়ারি রাতে গ্রিন লাইন বাসে করে যাত্রা শুরু হলো। যাত্রা আনন্দ শুরু হলো কলাবাগান বাস কাউন্টার থেকেই। আনন্দ শুরু হলো সেলফি তোলার মাধ্যমে। তারপর চিপস খাওয়া আর বাসে বসে বসে গল্প করা। তরুণদের গল্পের কোনো বিষয় থাকে না। কক্সবাজারের নানা বিষয়ের নিয়ে গল্প শুরু হলেও রাজনীতি, অর্থনীতি, সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে গল্প এবং সবশেষে ইরান-তুরানের গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে যাওয়া।
রাস্তা বেশ ফাঁকা, বাস চলছে আপনগতিতে। অতিদ্রুত চলে এলো কুমিল্লায়। সুপারভাইজার ঘোষণা দিলেন এখন বাস বিরতি নেবে। সুপারভাইজারের ঘোষণা শুনে চোখ ডলতে ডলতে সবাই উঠে আড়মোড়া ভেঙে বাস থেকে নেমে রেস্টুরেন্টের দিকে এগিয়ে গেল। মধ্যরাতে কুমিল্লায় হালকা-পাতলা খাবার-দাবার সেরে নেওয়া হলো। রাত অনেক, না হলে অনন্যাকে ফোন করা যেত। ওর বাসা কুমিল্লাতেই। আমরা বাসের যাত্রী, তাই জেগে আছি, কিন্তু ও তো শীতের রাতে গভীর ঘুমে আছে নিশ্চয়। থাক অনন্যাকে বিরক্ত করার প্রয়োজন নেই। কুমিল্লা থেকে ফের বাসে উঠে হালকা গপ্পসপ্প সেরে ঘুমের সমুদ্রে ডুবে গেল সবাই। বঙ্গোপসাগরে ভেসে থাকতে হলে বাসে ঘুম সেরে নিতেই হবে, না হলে সাগরে গোসল করতে গিয়ে ঘুমিয়ে গেলে সমুদ্রের বড় বড় তরঙ্গ সুযোগের সত্ ব্যবহার করতে ছাড়বে না।
এক-দু’জনের নাক ডাকার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, গাড়ির হর্ণের আওয়াজও শোনা যাচ্ছে। ঘুমও চলছে অবিরাম। বাস চলে এলো কক্সবাজার। আবারো বিরতি। আকাশ এখনো কালো কালো, কিছুক্ষণ পরে ভোর হবে। হিম বাতাশে শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। চাঁদর জড়িয়ে একে একে সবাই নেমে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে নিজেকে ফ্রেশ করে নিলাম। শরীর গরমের জন্য চা খাওয়া শুরু হলো। হুম, শরীর কিছুটা গরম গরম লাগছে। বিরতির সময় শেষ, বাসে গিয়ে আসনে বসলাম। বাস চলতে শুরু করলো।
এখন কারো চোখে ঘুম নেই। কখন শুনবো সমুদ্রের গর্জন, কখন দেখবো সমুদ্রের সৌন্দর্য আর কখন নামবো সমুদ্রে অপেক্ষা শুরু হয়ে গেল সবার। মনে চলছে উত্তেজনা। অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো, বাসও কক্সবাজারের শেষ গন্তব্যে থামলো। আজকের সকালটা অনেক সুন্দর, অনেক চমত্কার।
হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা বিচ ও মেরিন ড্রাইভসহ সবকিছুতে আমাদের ঘোরাফেরা শুরু হয়ে গেল। সমুদ্রে নামার সময় হয়েছে তো আর কিসের অপেক্ষা, ঝাঁপ দিলাম সমুদ্রে। শুরু হলো ফুর্তি। শরীর বেশি ক্লান্ত হলে সূর্যাস্ত দেখবো কিভাবে, তাই কিছুটা আরামের জন্য হোটেলে চলে গেলাম।
বিকেলে সি বিচে গিয়ে দেখি সূর্যাস্ত দেখতে পর্যটকরা সবাই ব্যস্ত। সূর্য অস্ত যেতে যেতে সমুদ্রের নিচেই চলে গেল। আমাদের সাথে রাত কাটানোর বিষয়টা একবারও ভাবলো না!
