ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মৃত লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে জীবিত করার গুজব ছড়ানোর দায়ে গ্রামবাসীর তোপের মুখে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে রহিমা আক্তার (৪৫) নামে এক নারী। রোববার দুপুরে উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রহিমা ওই গ্রামের মৃত মইজ উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত।
মৃত লাশ জীবিত করার খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রবিবার সকাল থেকে শত শত উৎসুক জনতা ঘটনা দেখতে কোনাপাড়া গ্রামে ভিড় জমায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎসুক লোকজনকে বুঝিয়ে শুনিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ মাস পূর্বে কোনাপাড়া গ্রামের মোঃ জালাল মিয়ার ছেলে আবু সাঈদ (২০) শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সাঈদের মরদেহ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুর ৩ মাস পর প্রতিবেশী নারী রহিমা আক্তার শনিবার সাঈদের মা ফাতেমা খাতুনকে জানায় সাঈদ কবরে জীবিত আছে। ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে কবর খুঁড়ে তিনি সাঈদকে কবর থেকে জীবিত তুলে আনবেন। রহিমা আক্তারের এমন কথা শুনে আবু সাঈদের মা কবর থেকে লাশ তোলার অনুমতি দেন। এরপর দুপক্ষের সমঝোতায় আজ রবিবার বাদ যোহর আবু সাঈদের লাশ কবর থেকে জীবিত তুলে আনার ক্ষণ ঠিক করা হয়।
মৃত লাশ জীবিত করার খবর ছড়িয়ে পড়লে রবিবার সকাল থেকেই কোনাপাড়া গ্রামে শতশত উৎসুক লোকজন ঘটনা দেখতে ভিড় করতে থাকে। আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতশত নারী-পুরুষর আবু সাঈদের কবরের সামনে ও বাড়িতে ভিড় জমায়।
মৃত আবু সাঈদের মা ফাতেমা খাতুন জানান, ‘গতকাল (শনিবার) রহিমা আক্তার জানান তার ছেলে কবরে বেঁচে আছে। তিনি ছেলেকে জীবিত বের করে আনবেন। আমি যদি তাকে এই কাজ করতে না দেই তাইলে আমার ছোট ছেলেকেও হারাতে হবে। তাই ভয়ে আমি লাশ তোলার অনুমতি দেই। কিন্তু এখন শুনতেছি তিনি নাকি বাড়ি থেকে পালিয়েছেন।’
রবিবার দুপুরে অভিযুক্ত রহিমা আক্তারের বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড় জমায়। তবে রহিমা বাড়িতে ছিলেন না।
রহিমা আক্তারের ছেলে রুবেল বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে মাজারের শিন্নি রানছিলাম। বিষয়ডা আমার বউ ভালা ভাবে নেয় নাই। তারপর থেকে তার মা বাড়ির মধ্যে উল্টা-পাল্টা শুরু করেছে।’
কবর থেকে লাশ উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, ‘খবরটা আমিও শুনছি। কিন্তু তার মাকে ছোট বোন শরীফা সকালে বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে।’
শরীফার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আল-আমিন নামে এক ব্যাক্তি তার স্বামী পরিচয়ে বলেন, ‘শ্বাশুড়ীকে জ্বীনে ধরছে। তিনি আমার সঙ্গেই আছে। তাকে নিয়ে পূর্বধলার কাজলা গ্রামে তার মহিলা ওস্তাদের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। ওস্তাদ বলছে কবর থেকে লাশ তোলা যাবে না। তুললে শাশুড়ি পাগল হয়ে যাবে।’
এলাকাবাসী জানায় রহিমা একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত মহিলা।
আরও পড়ুনঃ আশুলিয়ায় দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘লাশ উত্তোলনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি গুজব। জনসাধারণকে গুজবকে কান দিতে নিষেধ করা হয়েছে।’
ইত্তেফাক/নূহু
