যুক্তরাজ্য

থেরেসার সরকারের প্রতি ‘নাখোশ’ তরুণরা

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪২

শফিকুর রহমান রয়েল

 

২০১৬ সালের জুলাইয়ে ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগের পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়    কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন থেরেসা ম্যারি মে; মার্গারেট থ্যাচারের পর ব্রিটেনের ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। ২০১৭ সালের  মার্চে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যকে আলাদা করে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেন মে। এর পরের মাসে হঠাত্ করেই এক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন মে, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল সে বছরেরই জুন মাসে। তার আসল লক্ষ্য ছিল ব্রেক্সিট সমঝোতায় নিজের হাত শক্তিশালী করা। কিন্তু এর ফলশ্রুতিতে             ব্রিটেন পেয়েছিল এক ঝুলন্ত সংসদ। যেটিতে ১৯৮৩ সালের পর সর্বোচ্চ ভোট পেয়েও     কনজারভেটিভ পার্টির আসন ৩৩০ থেকে নেমে হয়েছিল ৩১৭। সার্বিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থনের জন্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে আত্মবিশ্বাস ও সরবরাহ আয়োজনের চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন মে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মে নিজ দলের অনাস্থা ভোটে পার পেয়ে যান কোনোমতে। তবে এর আগেই তিনি ঘোষণা দেন যে, ২০২২ সালে নির্ধারিত নির্বাচনে তিনি তার দলকে নেতৃত্ব দেবেন          না। এতে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, দেশের সিংহভাগ লোক তার ওপর আর ভরসা করতে পারছেন  না। ব্রেক্সিট নিয়ে ঝামেলা, বেকারত্ব ও টিউশন ফি বৃদ্ধির কারনে তরুণরা তার উপর নাখোশ। তবে আশার কথা বেকারত্বের হার এখন দুঃসহ পর্যায়ে নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বর-নভেম্বর প্রান্তিকে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী বেকার তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১১ হাজার। এ সংখ্যাটা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৭ হাজার বেশি হলেও এক বছর আগের চেয়ে কম। মে এখানে কিছুটা শান্ত্বনা পেরে পারেন।

গত বছর কর্মে নিযুক্ত তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা সামান্য কমার পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় (চাকরি খোঁজ না করা) লোকের সংখ্যাও কমেছে। ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সসীমার (অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় বেকার) বেকারত্বের হার সেপ্টেম্বর-নভেম্বর প্রান্তিকে ১১.৭ হলেও আগের প্রান্তিকে তা ছিল ১০.৮। এক বছর আগে তা ছিল ১২.২। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুব বেকারত্বেও গড় হার ১৫.২ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রিসে সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালের এপ্রিল-জুনে সেখানে যুব বেকারত্বের হার ছিল ৩৯.২ শতাংশ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে জার্মানি, যেখানে এ হার মাত্র ৬ শতাংশ। তবে থেরেসা মে তরুণদের আশার বাণী শুনিয়ে বলেছেন, তার প্রতি আস্থা রাখলে তাদের ভাগ্যের উন্নয়নে সবটুকু চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।