একুশের ফ্যাশন বাঙালির ঐতিহ্য

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:১৬

‘আমি ভাষা আন্দোলন দেখিনি, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তরুণ প্রজন্মের একজন নারী প্রতিনিধি হিসেবে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সকলের মাঝে যেন শুদ্ধ বাংলা ভাষার চর্চা অটুট থাকে, সেজন্য কাজ করে যাব। যেমন কথা বলার সময় মাঝে মাঝে ইংরেজি বলা থেকে বিরত থাকব। ভাষা আন্দোলনে নারীরা যেভাবে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করেছে, সেভাবেই ভাষার সম্মান রক্ষায় বর্তমানেও নারী-পুরুষ সবাইকে একত্র হয়ে কাজ করতে হবে। আমি যেহেতু নারী, তাই বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মাঝে বাংলা ভাষার শুদ্ধ প্রচলন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যেতে চাই।’ এভাবেই নিজের ভিতরে লালিত একুশের চেতনার কথা ব্যক্ত করলেন ইডেন মহিলা কলেজের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তাছলিমা আক্তার। একুশের বইমেলায় এখন নারী লেখকদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে বেড়েছে। বিষয়টি কিভাবে মূল্যায়ন করেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলায় প্রতি বছরই আসছে নারী লেখকদের বই। প্রতি বছরই খ্যাতনামা লেখকদের পাশাপাশি অনেক নারী লেখকদের বই প্রকাশিত হচ্ছে। যেমন : সেলিনা হোসেনের ‘আকাশ পাখির গল্প’, ‘ভাষা মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্য ও সংস্কৃৃতি’ ও ‘মুক্ত করো ভয়’; আনোয়ার সৈয়দ হকের উপন্যাস ‘ঘুষ, ‘লক্ষ্মী প্যাঁচালি’; তসলিমা নাসরিনের ‘নষ্ট মেয়ের নষ্ট গদ্য’, ‘যাবো কেন যাবো’ এবং মেহেরুন নেছা রুমার উপন্যাস ‘ওইখানে যেও নাকো তুমি’। আরও বিভিন্ন নারী লেখকদের বই এসেছে। এ থেকে দেখা যাচ্ছে যে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও নারীরা তাদের লেখার মাধ্যমে সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এবারের বই মেলায় শতকরা ২৫% নারীদের বই এসেছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে আরও বই আসবে নারী লেখকদের। যা একুশের চেতনাকেই সমৃদ্ধ করবে। সাহিত্য সৃজনে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমেই আমাদের দিন বদলের ধারাবাহিকতা ও একুশের চেতনা পাবে পূর্ণতা। কিছুটা হলেও শোধ হবে ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা।’ একুশ শোক থেকে অহংকার বা গর্বে পরিণত হয়েছে, বাংলা ভাষা আজ বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত। সর্বত্র শুদ্ধ বাংলা ভাষার প্রচলন করতে আপনার পরামর্শ কী? উত্তরে তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘“অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিল সেদিন বর্ণমালা, সেই থেকে শুরু সেই শুরু দিন বদলের পালা।” দিন বদলের পালা শুরু হয়েছিল সেদিন, যেদিন ইতিহাসের পাতায় রক্তপলাশ হয়ে ফুটেছিল সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, আউয়ালসহ আরও অনেক ভাষা শহীদের রক্ত। তাদের রক্ত আর ত্যাগের মহিমায় একুশ আজ সমুন্নত। কিন্তু আমরা কী পেরেছি সর্বত্র বাংলা প্রচলন করতে? না, পারিনি। তাই আমি মনে করি, সর্বত্র বাংলার প্রচলন নিশ্চিত করতে প্রথমেই বাংলা ভাষা প্রচলন আইনের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চিঠি, নথি, আবেদনপত্রসহ অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি বাংলায় সম্পন্ন করার নির্দেশ জারি করতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করে তবে তা বাতিল বলে গণ্য করতে হবে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল যেমন :চলচ্চিত্র, নাটক, টেলিভিশন, যাত্রা, রেডিও এসব ক্ষেত্রে বিদেশি ভাষার শব্দের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে।’ আমাদের দেশীয় ফ্যাশনের একুশের চেতনা সমুজ্জ্বল। একুশের ফ্যাশন নিয়ে আপনার ভাবনা জানতে চাই? উত্তরে তিনি বলেন, ‘১৯৯৯ সাল থেকে অমর একুশে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। ফেব্রুয়ারি মাস এলেই দেখা যায় যে দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো একুশের চেতনায় উজ্জীবিত নানা ভাবনা তুলে ধরছে পোশাকে। পোশাকে যুক্ত হয়েছে একুশের গান, কবিতা, স্লোগান ও বাংলা ভাষায় রচিত বিভিন্ন পঙক্তি। ফুটে উঠেছে বাঙালির নিজস্ব ইতিহাস ও ঐতিহ্য। একুশের এই ফ্যাশন এখন বাঙালির ঐতিহ্য।’