সমস্যা যখন শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০০

বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় বেশি ভুগে থাকে। এছাড়া নবজাতক কিংবা সদ্য সলিড খাবার শুরু করেছে এমন শিশুরও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্যের বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন: কম পানি খাওয়া, মাংসজাতীয় খাবার অধিক খাওয়া এবং আঁশ জাতীয় খাবার কম পরিমাণে গ্রহণ করা, হাইপোথাইরয়েডিজম, এনাল ফিসার, রেক্টাল স্টেনোসিস ইত্যাদি।

এছাড়া অন্ত্রের ও শিরদাঁড়ার জন্মসূত্রে পাওয়া কিছু গঠনগত ত্রুটির কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। হার্সপ্রাং ডিজিজ এর মধ্যে অন্যতম। কিছু ওষুধ সেবনের জন্যও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যেমন: এন্টিহিস্টামিন, নারকোটিকস ইত্যাদি। সপ্তাহে তিন বারের কম মল ত্যাগ অথবা খুব শক্ত মল ত্যাগ করার ফলে শিশুদের বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। যেমন: পেটে ব্যথা, পেট শক্ত হওয়া বা ফুলে উঠা, ক্ষুধামন্দা, বমি বা বমি বমি ভাব, খাবারে অরুচি, বিষণ্নতা, ওজন কমে পাওয়া ইত্যাদি।

তাই শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে বাবা-মাকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। শিশুর দৈনন্দিন খাবার তালিকায় আঁশ জাতীয় খাবার যেমন- শাক সবজি ও ফলমূল রাখতে হবে। এছাড়া প্রচুর পানি পান করাতে হবে। মাংস জাতীয় খাবার শিশুকে কম দেওয়াই উত্তম।

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে প্রতিদিন তার খেলাধুলার ব্যবস্থা করা উচিত। এতে অন্ত্রের নড়াচড়া স্বাভাবিক হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। এছাড়া ইসুপগুলের ভূসি কিংবা খেজুর শিশুর পরিপাক ক্রিয়া স্বাভাবিক করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

শিশুর পায়খানা নরম রাখতে লাক্সেটিভ জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। মা-বাবার একটু সচেতনতাই পারে অনাকাঙ্ক্ষিত এই সমস্যা থেকে শিশুকে দূরে রাখতে।

লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ