বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর

ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এলপিজি গ্যাসের দোকান

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৯

বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এলপিজি গ্যাসসহ সিলিন্ডারের দোকান। লাইসেন্সবিহীন এসব দোকানগুলোতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ওই জ্বালানি। আইনের তোয়াক্কা না করেই শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই দুই উপজেলার প্রতিটি বাজারেই চলছে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়মনীতি ও অনুমতিবিহীন অবৈধ গ্যাসের ব্যবসা অদৃশ্য কোনো কারণে দেখেও না দেখার ভান করছেন স্থানীয় প্রশাসন। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের চোখের সামনেই ওই অবৈধ ব্যবসা চলছে। খোলামেলাভাবে গ্যাস বিক্রি করায় চরম ঝুঁকিতে চলাফেরা করতে হচ্ছে ক্রেতা, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ শিক্ষার্থীদের।

জানা গেছে, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়াই শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে অন্য ব্যবসার পাশাপাশি দুই উপজেলার রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও প্রধান সড়কের মোড়গুলোতে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস। ফলে দেখা দিয়েছে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির আশঙ্কা। এলপিজি গ্যাস কোম্পানিগুলোর ডিলাররা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার মজুদ আইন অনুস্মরণ করছে না। ফলে বাজারগুলোসহ মহাসড়কের পার্শ্বে থাকা মুদির দোকান, ফ্লেক্সিলোডের দোকান, পানের দোকান, চায়ের দোকান, ওষুধের দোকান, রড সিমেন্টের দোকানেও অনিরাপদ স্থানে অগ্নিনির্বাপক বা অক্সিজেন ছাড়া অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী শঙ্কিত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে পুরোপুরি নির্বিকার। অভিযোগ রয়েছে,একাধিক দোকানে আবার মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রিসহ গাড়িতে বহন করা হচ্ছে। আটটির কম গ্যাস সিলিন্ডার রাখলে লাইসেন্স প্রয়োজন হবে না, আইনের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করছে দোকানিরা। এসব দোকানগুলোতে নেই প্রাথমিক বিপর্যয় রক্ষায় ড্রাই পাউডার ও সিও ২ সরঞ্জামসহ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা।

একাধিক অবৈধ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতারা জানান, লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের বিপণন কৌশলে প্ররোচিত হয়েও তারা আইন অনুসরণ না করে ব্যবসা করছেন। একাধিক দোকানি এ ব্যবসার আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানলেও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।

সূত্র জানায়, বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর দ্য এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ ধারার ২ বিধিতে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ক্ষেত্রে এলপিজি মজুদ করা যাবে না বলা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী আটটি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে। একই বিধির ৭১ নং ধারায় বলা আছে, আগুন  নেভানোর জন্য স্থাপনা বা মজুদাগারে যথেষ্ট পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। এ আইন অমান্য করলে যে কোনো ব্যবসায়ী অন্যূন দুই বছর ও অনধিক পাঁচ বছরের জেলসহ অনধিক ৫০ হাজার টাকায় দণ্ডিত হবেন এবং অর্থ অনাদায়ী থাকলে অতিরিক্ত আরো ছয় মাস পর্যন্ত কারাগারের বিধান রয়েছে।

ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু বলেন, যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করার কারণে এলাকাবাসীসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সুনজর দেয়া দরকার।

সিলেট ডিভিশনাল এলপিজি গ্যাস অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ জানান, লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনসহ বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কোন রকম অভিযান না থাকায় অবৈধ ব্যবসায়ীরা খোলামেলাভাবে বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের উধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে বার বার লিখিতভাবে জানালেও কোন কাজ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমন কুমার দাস বলেন, এ বিষয়টি মোবাইল কোর্টের আওতায় রয়েছে। খোঁজ নিয়ে এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যাদের কাগজপত্র নেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে ছিল না। শিগগিরই এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।