মহানগরীর সোনাদীঘির মোড় এলাকায় নির্মাণাধীন সিটি সেন্টারের উত্তরপাশে নির্মিত হবে দৃষ্টিনন্দন রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এর নির্মাণ কাজ হবে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলেই।
জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউটের ১ দশমিক শূন্য ১ একর জায়গায় শহীদ মিনার নির্মাণ করবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)।
জানা গেছে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে রাসিক। ইতোমধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের নকশাসহ সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।
জানা যায়, ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের প্রবেশ পথের পাশেই। কিন্তু ওই শহীদ মিনারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি। দেশের প্রথম শহীদ মিনার পুননির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও প্রায় ৩ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে।
রাজশাহী কলেজ ছাড়াও শহরের প্রাণকেন্দ্র সাহেব বাজারের ভূবনমোহন পার্কেও রয়েছে একটি শহীদ মিনার। ঐতিহাসিক এ শহীদ মিনার মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সাক্ষি। কিন্তু দখলে বাণিজ্যে শহীদ মিনারটি এখন কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনেও শিক্ষা নগরীখ্যাত এ নগরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি।
সূত্রমতে, নতুন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি নির্মিত হবে সোনাদীঘির উত্তর-পশ্চিম পাড় ঘেঁষে। দক্ষিণ দিকে থাকছে সিটি সেন্টার। দীঘির পাড় থেকে সোপান উঠছে শহীদ মিনারের চত্বর পর্যন্ত। থাকছে সুপরিসর ফাঁকা জায়গাসহ পায়ে হাঁটা পথ।
কিন্তু ১৬তলা সিটি সেন্টারের এখনো ২টি তলা নির্মাণ কাজ বাকি। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে ১৪তলা পর্যন্ত। এ প্রকল্পে রয়েছে মসজিদ, তথ্যপ্রযুক্তি পাঠাগার, এম্ফি থিয়েটার, পায়ে হাঁটা পথ নির্মাণ ও ল্যান্ডস্কেপিংসহ সোনাদীঘির সংস্কার। প্রায় এক দশকেও কাজে গতি আনতে পারেনি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনা প্রোপার্টিজ।
২০০৯ সালে পিপিপির আওতায় সিটি করপোরেশনের পুরনো ভবনের জায়গায় সিটি সেন্টার নির্মাণকাজ শুরু করে এনা প্রোপার্টিজ। কথা ছিল, ২০১৪ সালের ১ এপ্রিলে শেষ হবে নির্মাণ। পরে দফায় দফায় সময় বাড়ানো হলেও নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এনামুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুনঃ রাজশাহীর ৭৬ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৬৬টিই চিকিৎসকশূন্য
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ বিষয়ে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, নির্মাণাধীন সিটি কমপ্লেক্সের সঙ্গেই যুক্ত হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। জেলা পরিষদের জায়গায় এটি নির্মাণ পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত।
ইত্তেফাক/নূহু
