নিহতের ১০ মাস পর আদালতের নির্দেশে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার যুবক সাইফুল ইসলামের (১৯) লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার বিকাল ৩ টার দিকে পিরোজপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফকরুল ইসলাম ও ইন্দুরকানী থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ডিএনএ টেস্টের জন্য লাশটি উত্তোলন করা হয়।
মামলার বাদী ও নিহতের মা জানান, ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৯) তার বোনের সাথে আশুলিয়ার বাসা থেকে বের হন। এরপর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ঢাকা শ্রীপুর এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নলবুনিয়া গ্রামের উজ্জল, রনি তালুকদার, আসাদ আকন, আবু সায়ীদ পান্নাসহ ১০ জন লোক রড দিয়ে পিটিয়ে ও রাস্তার ওপর আছড়িয়ে নির্মমভাবে সাইফুলকে হত্যা করে। এরপর গাড়ির নিচে ফেলে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়। পরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ওইদিন রাতে তার নিজ গ্রাম নলবুনিয়ায় তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে গত ৩১ মে ২০১৮ সালে ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গত ২৫ নভেম্বর ২০১৮ সালে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য লাশটি উত্তোলনে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে সোমবার পিরোজপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফকরুল ইসলাম ও ইন্দুরকানী থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ডিএনএ টেস্টের জন্য সোমবার বিকাল ৩ টায় লাশটি উত্তোলন করা হয়।
আরো পড়ুন: ‘বদিকে দিয়ে মাদক, শাজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফকরুল ইসলাম জানান, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় গত ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল সাইফুল ইসলাম নিহত হয়। পরে তার পরিবার আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করলে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের নির্দেশে লাশটি উত্তোলন করা হয়েছে।
ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন মোল্লা জানান, ‘সাইফুলের এ হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ ঘাতক চক্র। যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। এরা পিরোজপুর ও ঢাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মে লিপ্ত। ঢাকায় কর্মরত পিরোজপুর শংকরপাশা এলাকার বাসিন্দা পুলিশের একজন সাব ইন্সপেক্টর তাদের ইন্দনদাতা। এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকার কথা উক্ত আইনজীবী জানান। মামলায় যাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে তারা নিহত সাইফুলের এলাকা পাড়েরহাট ও শংকরপাশা এবং ঢাকার বাসিন্দা।
ইত্তেফাক/বিএএফ
