ড্রয়ে মোহামেডানে খুশির বন্যা

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:২৪

আইসিইউতে রোগী যেমনটা সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকেন, মোহামেডানের ফুটবল দলের চিত্রটা ঠিক এরকম। কিছু রোগীর যেমন উন্নতি হয়, তেমনি কাল একটি ড্র পেয়ে মোহামেডানেরও উন্নতি হয়েছে। চার ম্যাচ হারের পর মোহামেডান পয়েন্টের মুখ দেখল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মোহামেডানে খুশির বন্যা।

ম্যাচ শেষে ডাগআউটে যখন খেলোয়াড়রা ফিরছিলেন তখন অন্য খেলোয়াড়রা খুশিতে গদগদ। একজন আরেকজনকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন। বেঞ্চে বসা দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু এবং তার ভাগ্নেজামাই এমিলির শরীরি ভাষা ‘ড্র করে দেখিয়ে দিলাম।’ বাবু সাংবাদিকদের বললেন, ‘এবারও এমিলি দল বানিয়েছে দেখলেন তো কেমন খেলেছে। চলে যাওয়া কোচ আজগর আলী নাসিরের প্রসঙ্গ টেনে ম্যানেজার বললেন, ‘নাসির এসেছিল বেড়াতে।’

এরপরই ম্যানেজার চলে গেলেন অপেক্ষমাণ টিভি ক্যামেরাগুলোর সামনে। পাশেই মিঠুন এসে বলছিলেন, ‘কোচ নাসিরের কারণে আমরা হারছিলাম। উনি ডিফেন্স নিয়ে কাজ করেননি। জুয়েল ভাই (শহিদুল ইসলাম জুয়েল সহকারী কোচ) কয়েকদিন ধরে ডিফেন্স নিয়ে কাজ করেছেন। আমরা রক্ষণভাগের কারণে গোল খাচ্ছিলাম।’

লিংকন মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় জুয়েল প্রসঙ্গ উঠলে মিঠুনের বিপরীতটাই বললেন লিংকন। সহকারী কোচ জুয়েলের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তিনি অদৃশ্য ইশারা পেয়ে দ্রুতই মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলেন। পেছনে দুই একজন সাংবাদিক ডাকলেও শুনলেন না। কালকের ড্রয়ে ৬ খেলায় ৪ পয়েন্ট পেয়ে মোহামেডান এখন ১৩ দলের মধ্যে নবম। চট্টগ্রাম আবাহনী ৭ ম্যাচে ২ জয় ৩ ড্রয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মোহামেডানের সমর্থক সবচেয়ে কম। তারা মাঠে আসার আগ্রহ দেখায় না। কাল যে কজন এসেছিলেন তারা খেলা শেষে গ্যালারি হতে মোহামেডানের কর্মকর্তাকে গালমন্দ করছিলেন। গালমন্দ করলেও তারা খুশি যেভাবে হারের লজ্জা মাখছিল তা আপাতত হলেও থেমেছে। দ্বিতীয় জয়ের দরজায় কড়া নাড়ছে মোহামেডান। শুক্রবার শেখ জামালের বিপক্ষে এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি আবাহনীর বিপক্ষে খেলবে মোহামেডান। এখন নতুন করে গড়ে উঠার কি পরিকল্পনা করে সেটা তখন দেখবে দর্শক।

মোহামেডানের সঙ্গে ড্র করে চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ জুলফিকার আলী মিন্টু ক্ষেপেছেন। এমন লণ্ডভণ্ড ফুটবল দলের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বেন এমনটাই ভেবেছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মিন্টু। খেলা শেষে গোল মিসের মহড়ার কথা বলতে গিয়ে মিন্টুর মেজাজটা আরও বিগড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি ফরোয়ার্ড, কৌশিক এবং শাহেদের গোল মিস তার কাছে অমার্জনীয়।

মিন্টু বলছিলেন, ‘সবকিছু ট্যাকটিস দিয়ে হয় না। ম্যাচের ওই মুহূর্তে আপনি ঠিক করবেন কী করতে হবে। বুঝতে হবে মোহামেডানের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এ ধরনের দলের বিপক্ষে কীভাবে খেলতে হবে তা বুঝতে হবে।’ কোচ জানিয়ে দিয়েছেন তারা তাদের সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করেছেন। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন আগামী উইনডোতে বিদেশি বদল করবেন।