চৌগাছায় হামলায় যুবলীগ নেতা নিহত

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৮

চৌগাছায় রবিবার নব্য আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় বারিক নামের একজন যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয় তার সহোদর আনিছুর রহমান। তাকে প্রথমে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর সদর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত বারিক এবং সহদর আনিছুর উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের চারাবাড়ি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। বারিক ফুলসারা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

নিহত বারিকের বাবা আব্দুল আজিজ জনান, জমাজমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী এলাহী বকসের সাথে গোলযোগ চলে আসছিল। তারই জের ধরে রবিবার সকালে এলাহী বকসের ছেলে নান্নু, ঠান্ডু সমসের গাজির ছেলে জুলমত বাকেরের ছেলে আরিফ, মৃত আলা গাজির ছেলে সুজাতসহ ১৫/১৬ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারিক ও আনিছুরকে এলোপাতাড়ি কুপায়ে মারা গেছে ভেবে তাদের ফেলে রেখে চলে যায়।

উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও চৌগাছা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় জানিয়েছেন, হামলাকারীরা বিএনপি ও জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী। এরা গত সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমানের হাত ধরে দলে যোগদান করেছেন।

ফুলসারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদুর রহমান পান্নু জানান, নব্য আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপের চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিলে চিকিত্সক আব্দুল বারিককে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিফাত জাহান রাজিব জানান, নিহত বারিক এবং প্রতিবেশী নান্নুদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমাজমি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। যার প্রেক্ষিতে উভয় পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর বিরোধী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।