তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান ‘ছায়া যুদ্ধের’ মধ্যেই ইরানি প্রেসিডেন্ট রবিবার এই মন্তব্য করেছেন।
দক্ষিণ ইরানে দেওয়া এক ভাষণে রুহানি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় আঞ্চলিক সব দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ইরান। আমাদের শত্রুরা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, ইরানিদের মধ্যে বিভেদ চায়।’ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বন্দর-ই গোনাভেহতে দেওয়া ভাষণে রুহানি বলেন, ইরানকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ইরানি প্রেসিডেন্টের ভাষণটি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সমপ্রচার করা হয়। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপের কাছে আমরা নতি স্বীকার করব না।
ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও ইসরাইলের দ্বন্দ্বের বিষয়টি গোপন নয়। সামপ্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়া ও ইয়েমেনের যুদ্ধেও রিয়াদ ও তেহরান বিপক্ষ শিবিরে অবস্থান করছে। সৌদি আরব ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালকে স্বাগত জানিয়েছে।
ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বাড়াচ্ছে অভিযোগ করে গত বছর ট্রাম্প ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের স্বাক্ষরিত ‘জয়েন্ট কমিপ্রহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওিএ)’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞাও পুনর্বহাল করেন তিনি। ওয়াশিংটন তেহরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও হুমকি দিয়ে রেখেছে। এমনটা হলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের তেল রপ্তানি আটকে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি আছে ইরানেরও।
