গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দাফনের ছয় মাস পর জ্যোতি হীরা ওরফে সোহাগী নামে এক গৃহবধূর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে গোপালগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকারের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত রায়ের উপস্থিতিতে মুকসুদপুর উপজেলার কলিগ্রামের কবর থেকে লাশটি তোলা হয়। পরে নমুনা সংগ্রহ করে ময়না তদন্তের জন্য গৃহবধূর লাশ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, কলিগ্রামের আদ্বিত্য রায়ের ছেলে অচিন্ত্য রায় একই গ্রামের জ্যাকব হীরার মেয়ে জ্যোতি হীরা ওরফে সোহাগীকে ২০১৮ সালের আগষ্ট মাসে বিয়ে করে। বিয়ের কয়েকদিন পর স্বামী সোহাগীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সোহাগী টাকা এনে দিতে অস্বীকার করায় স্বামী তার ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। সোহাগীর বাবা টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারপিট করে। সংকটজনক অবস্থায় সোহাগীকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতবছরের ২১ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পরে সোহাগীর বাবা গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ২৮ নভেম্বর অচিন্ত্য রায়, আদ্বিত্য রায়, যোগেশ রায় ও অন্তরা রায়ের বিরুদ্ধে একটি নালিশী পিটিশন দায়ের করেন। আদালত বাদীর পিটিশনটি আমলে নিয়ে মুকসুদপুর থানার ওসিকে এফআইআর করার নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মুকসুদপুর থানার এসআই নব কুমার ঘোষ বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্তের জন্য লাশ ময়না তদন্ত প্রয়োজন পড়ে। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লাশ উত্তোলনের আবেদন করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আবেদন মঞ্জুর করলে রবিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত রায়ের উপস্থিতিতে কবর থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উত্তোলন করা হয়। লাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
