বঙ্গবন্ধুর ছবি খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক!

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের নামকরণ করেছিলেন। ১৯৭২ সালের ১২৭ নম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্বারা এ ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়। অথচ ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থে স্থান পায়নি তার (জাতির পিতা) ছবি। বঙ্গবন্ধুর ছবি স্থান না পেলেও পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি ঠিকই ছাপা হয়েছে ওই গ্রন্থে।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে জাতির পিতার ছবি ওই বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যাবশ্যক ছিল বলে মত দিয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটি। কমিটি বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কোথাও বঙ্গবন্ধুর ছবি খুঁজে না পাওয়ায় তা ছাপানো হয়নি মর্মে বইটির প্রণয়ন ও প্রকাশনার সাথে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ছবি গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত না করায় ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে। বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল সোমবার এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। দাখিলের বিষয়টি জানান রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব বিষয় উঠে এসেছে সেটা আতঙ্কিত হওয়ার মতো। কাল (মঙ্গলবার) আদেশ দেওয়া হবে।

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি না ছাপানো এবং ইতহাস বিকৃতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ড. কাজী এরতেজা হাসান। ওই রিটে আদালতের দেয়া নির্দেশনার প্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতি) ড. মোঃ জাফর উদ্দীনকে আহবায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বইটি প্রকাশনার সাথে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি, সম্পাদনা কমিটি এবং গবেষণা ও পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের সাক্ষাত্কার, প্রশ্নমালার মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পাদনা কমিটি বলেছে গ্রন্থটিতে তদানীন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের ছবি না ছাপানোই শ্রেয় ছিল। এ দুজনের ছবি ছাপানো ছিল আমাদের সকলের ভুল। তবে বইটিতে আইয়ুব খানের দমন পীড়নের কথা উল্লেখ রয়েছে। সম্পাদনা কমিটির এ বক্তব্য তুলে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে বলছে, একদিকে দমন পীড়নের কথা উল্লেখ, অপরদিকে বইটির অ্যালবামে আইয়ুবের একাধিক ছবি সন্নিবেশ করা পরস্পরবিরোধী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পাদনা কমিটি বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট জাতির পিতার ছবি খুঁজেছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত টিম বঙ্গবন্ধুর ছবি সংগ্রহ করতে পারেনি। এ কারণে ছবি ছাপানো যায়নি। কিন্তু গ্রন্থটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, বইটির দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ ব্যাংক’ এর ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট অথবা বঙ্গবন্ধুর অন্য যে কোনো ছবি বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা যেত।