আখাউড়ায় ওজন মাপার যন্ত্রে ত্রুটি, আমদানি কার্যক্রম বন্ধ

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২১, ১৬:৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের পণ্য পরিমাপের যন্ত্রের (ওজন স্কেল) সমস্যার কারণে ২ দিন ধরে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিক এবং লিখিত ভাবে জানানোর পরও স্কেলটি মেরামত না করায় সোমবার (১ নভেম্বর) দুপুর থেকে ভারত থেকে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩ মাস ধরে  আখাউড়া স্থলবন্দরের পণ্যের ওজন মাপার স্কেলে সঠিক ভাবে ওজন পরিমাপ হচ্ছে না। কখনো ওজন কমছে, কখনো আবার বাড়ছে। এতে করে আমদানিকৃত পণ্য রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে সঠিকভাবে বুঝে নিতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। এজন্য ব্যবসার ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও এর সমাধান না হওয়ায় আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 
  
আখাউড়া স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আক্তার হোসেন সাজু জানান, গত আগস্ট মাসের ৮ তারিখ থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানের আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই বন্দরে থাকা ওজন স্কেলে আমদানিকৃত পণ্যের ওজন কখনও বাড়ছে, কখনও আবার কমছে। এজন্য আমদানিকারক থেকে সঠিকভাবে পণ্য বুঝে নিতে পারছি না। বিষয়টির সমাধানের জন্য বন্দরের কর্তৃপক্ষকে একাধিকার মৌখিকভাবে বার বার জানিয়েছি। 
 
আখাউড়া স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফোরকান খলিফা জানান, আখাউড়া স্থলবন্দর একটি শতভাগ রপ্তানি মুখর বন্দর। গত তিন মাস ধরে এই বন্দরে আমদানি বেড়েছে। কিন্তু বন্দরের ওজন স্কেলটি সংস্কারের অভাবে আমদানিকৃত পণ্যের প্রতিটি ট্রাকে ওজন প্রকৃত ওজন থেকে ১০০ থেকে ২০০ কেজি বেড়ে যাচ্ছে। তাতে করে প্রতি শিপমেন্টে এলসির মোট ওজন থেকে থেকে প্রায় ৩/৪ টন করে ওজন বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্কেলের সমস্যার কারণে মালামাল বেশি চলে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমদানিকারক এ বন্দর দিয়ে ব্যবসা করার আগ্রহ হারিয়ে অন্য বন্দরে চলে যাবে। 
 
আখাউড়া স্থলবন্দর কর্মকর্তা ট্রাফিক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের স্কেলে ওজনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। প্রতি ট্রাকে ওজন কোন গাড়িতে ৫০ কেজি ১০০ কেজি কম বেশি হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন টেকনিশিয়ান এসে স্কেলটি এডজাস্টমেন্ট করে গিয়েছিল।কিন্তু আবারও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি হেড অফিস কে জানিয়েছি। হেড অফিস এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্কেল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন আসছে। হয়তো আজই (বুধবার) এসে পৌছবে। দ্রুত মেরামত কাজ হলেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। 

 

ইত্তেফাক/এমএএম