দেখিয়া শুনিয়া পথ চলিতে হইবে

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২১, ১৬:৫৩

ইউপি নির্বাচন নিয়া হুমকি-ধামকি প্রদান, সংঘাত-সংঘর্ষ এমনকি হত্যাকা্ল অব্যাহত রহিয়াছে। ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণির নেতা-কর্মীর আচরণে তৃণমূলে বিরাজ করিতেছে অস্থিরতা-অরাজকতা। তাহারা কথায় কথায় অন্যপ্রার্থীদের এলাকা হইতে বাহির দেওয়ার হুমকি দিতেছেন। হুমকির সুরে বলিতেছেন যে, ইউপি নির্বাচনে তাহাদের প্রার্থীকে ভোট দিন, প্রতিপক্ষকে ভোট দিবেন না। যাহারা এইসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তা বলিতেছেন, তাহারা একবারও ভাবিয়া দেখিতেছেন না যে, তাহাদেরও এলাকা হইতে বাহির করিয়া দেওয়া যাইতে পারে। ইহা উন্নয়নশীল বিশ্বের এক সাধারণ সমস্যা। ক্ষমতাবানরা শুধু এই মুহূর্তের কথা বলেন। তাহারা অতীতের কথা বেমালুম ভুলিয়া যান। ভবিষ্যতের কথা গভীর চিন্তা করিয়া ভাবেন না। ইউপি নির্বাচনে কী ধরনের ভোট হয়, তাহা অনেকের অজানা নহে। যেহেতু তাহারা যেনতেন প্রকারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন, এইজন্য তাহারা মাথা ঠান্ডা রাখিতে পারেন না। যাহারা এমন বেপরোয়া কথাবার্তা বলেন, তাহাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে না আছে তেমন বংশগত পরিচয়, না আছে শিক্ষাগত যোগ্যতা।

আমরা মাঝেমধ্যে ভাবি, এইরকম অবস্থা আরো কিছুদিন চলিতে থাকিলে এই দেশ না জানি আবার বসবাসের অযোগ্য হইয়া যায়। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া প্রভৃতি দেশ হইতে উদ্বাস্তু হইয়াছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। ১৯৭১ সালে আমরা নিজেরাও উদ্বাস্তু হইয়া ভারত পাড়ি দিয়াছিলাম। মানুষ কোন পরিপ্রেক্ষিতে দেশ ছাড়ে বা ছাড়িতে বাধ্য হয়, তাহা সকলেরই বুঝিবার কথা। ক্ষমতায় যাহারা আছেন ও ছিলেন, তাহাদের ইহা না বুঝিবার কথা নহে। তাই কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের লোক কি এভাবে কাহাকে হুমকি দিতে পারে? ক্ষমতা কি চিরস্থায়ী? মহান আল্লাহ মানুষকে ধন-সম্পদ, মান-সম্মান ও ক্ষমতা দিয়া থাকেন পরীক্ষা করিবার জন্য। ইহাতে আমাদের বিনম্র হইতে বলা হইয়াছে। ইতিহাস অনুসন্ধান করিলে দেখা যায়, পঁচাত্তরের মর্মান্তিক, নৃশংস ও নিন্দিত হত্যাকা্লের পর আবার ক্ষমতার স্বাদ পাইতে তাহাদের দুই দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করিতে হইয়াছে। এই অবস্থায় কীভাবে অন্যকে গৃহছাড়া ও লক্ষ্মীছাড়া করিবার কথা বলা যায়? আমাদের নেতাদের শুভবুদ্ধির উদয় হইবে কখন? কথায় বলে, দুইদিনের বৈরাগী, ভাতেরে বলে অন্ন। এই অন্ন বলা যাহারা শুরু করিয়াছে, তাহাদের যোগ্যতা নিয়া নানা প্রশ্ন না থাকিয়া পারে না।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে কেহ ক্ষমতায় থাকিবেন, কেহ থাকিবেন না ইহাই স্বাভাবিক। এইজন্য আমাদের আচরণ হইতে হইবে গণতন্ত্রের মতো। আজ হউক কাল হউক পালাবদল হইবেই, তখন যেন কোনোপ্রকার বিপদ ঘনাইয়া না আসে। এমনিতেই এখন বিশ্বউষ্ণতা বাড়িতেছে। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর কপ-২৬ সম্মেলনও উত্তাপ ছড়াইতেছে। যেখানে বিশ্ব জুড়িয়া তাপমাত্রা বাড়িতেছে, সেখানে নূতন করিয়া অগ্নিবর্ষণ নিরর্থক। সীমালঙ্ঘন করা অনুচিত্। উন্নয়নশীল বিশ্বে এমন সব লোকের হস্তে এখন অগাধ টাকা-কড়ি জমা হইয়াছে যাহাকে বানরের গলায় মুক্তার মালার সহিত তুলনা করা যায়। সুতরাং কে কাহাকে দেশ-নদী-খাল-বিল ছাড়া করে, তাহা দেখিবার বিষয় বটে।

দেওয়ালের লিখনও অনেক সময় আমাদের পড়িয়া দেখিতে হয়। বর্তমানে রাজনীতির ক্ষেত্রে অনেক সময় যে ভাষা ব্যবহার করা হইতেছে তাহা কাম্য নহে। মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলত্জ ‘বাংলাদেশ : আনফিনিশড রেভল্যুশন’ নামে একটি বই লিখিয়াছেন। এই বইটি অনুবাদ করিয়া সর্বত্র প্রচার করা প্রয়োজন। মনে রাখা দরকার, অদ্য রজনী শেষ রজনী নহে। এখন চলিতেছে ২০২১ সাল। তাই দেখিয়া শুনিয়া পথ চলিতে হইবে। কথা বলিতে হইবে সাবধানে যদি আমরা দেশটাকে রক্ষা করিতে চাই।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন