বেলাভূমি’র কথা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৭

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দ্বীপ-চর, সমুদ্র-নদী, মত্স্যজীবী-জেলে, জলদস্যু, ইলিশ, উপকূল, জোয়ার-ভাটা, ঢেউ, পর্যটন বিকাশ, সবুজ সংকট, লবণাক্ততা, ক্ষত-বিক্ষত, বিপন্ন, নদীভাঙন আতঙ্ক— এসব উপকূল সংক্রান্ত    শব্দের সমন্বয়ে তৈরি হয় একটি খবর। যে খবর প্রতিবেদন, ফিচার বা কবিতার ভঙ্গিতেও লেখা হতে পারে। চারপাশের ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা, সমস্যা-সম্ভাবনার তথ্যচিত্র নিয়েই উপকূল পড়ুয়ারা লিখছে কাগজে। এরপর একুশ-বাইশ জন পড়ুয়ার লেখা একত্র হয়। সাজানো হয় আর্ট কাগজের ওপরে। যা লেখার গুরুত্ব, কাগজের রঙের ওপর ভিত্তি করে। তারপর ওদের হাতেই ডিজাইন, অংকন, রঙতুলিতে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে তাদের পত্রিকা।

ক্যাম্পাসের দেয়ালে এ পত্রিকার স্থান বলেই ওরা কজন বন্ধু মিলে দেয়ালে ট্যাপ বা পেরেক দিয়ে আটকিয়ে রাখে। পড়ার সুযোগ করে দেয় স্কুলের শিক্ষকদের। তাদের পড়া শেষ হতে না হতেই পত্রিকা পড়তে ভিড় জমে অন্যসব পড়ুয়াদের। তারা পত্রিকাটির নাম দেয় দেয়ালপত্রিকা। এতক্ষণ বলছিলাম উপকূল পড়ুয়াদের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি দেয়ালপত্রিকা ‘বেলাভূমি’র কথা।

প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর তাদের উদ্যোগেই বেলাভূমি বের হয়। প্রতি সংখ্যার বিষয় তারাই নির্ধারণ করে। আবার তাদের সম্পাদনায়ই বের হয় দেয়ালপত্রিকাটি। এক কথায়ই ওরা নিজেরাই প্রতিবেদক, নিজেরাই ডিজাইনার, নিজেরাই সম্পাদক। এতে ওদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটে, তথ্যসমৃদ্ধ, সৃজনশীল মনস্ক হয়ে গড়ে ওঠে। তাদের চিন্তা-জগতে গবেষণাধর্মী মনোভাব সৃষ্টি হয়। ইতিবাচক সমাজ গঠনে এ পড়ুয়ারাই এখন উদ্যমী।

উপকূল অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনপদে আলো ফেলার স্বপ্ন নিয়ে রফিকুল ইসলাম মন্টু ভোলার সদরের টবগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ২০১৪ সালে দেয়ালপত্রিকাটির প্রচলন করেন। যেটি এখন উপকূলের শতাধিক স্কুলে নিয়মিত বের হচ্ছে। শুধু স্কুল নয়, স্কুলে যে সব শিক্ষার্থীর দেয়ালপত্রিকায় লেখালেখির হাতেখড়ি, তাদের আগ্রহের জায়গা থেকে ইতোমধ্যে কলেজে বের হচ্ছে বেলাভূমি। উপকূলের গণ্ডি পেরিয়ে কিছু সংখ্যক উপকূল পড়ুয়ার লেখালেখিতে রাজধানী ঢাকার বুকে আত্মপ্রকাশ করেছে বেলাভূমি।

বেলাভূমি প্রকাশের পেছনের গল্প জানতে চাইলে এর প্রবর্তক উপকূল বন্ধু রফিকুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘খবরের খোঁজে উপকূলের একস্থান থেকে অন্যস্থানে আমাকে ঘুরতে হয়। যখন আমি উপকূলের কোনো এক গ্রামে যাই, তখন মানুষের মাঝে যথেষ্ট তথ্যশূন্যতা দেখি। ছেলে-মেয়েদের জিজ্ঞেস করলে তারা কিছুই বলতে পারে না। যা আমার মাথায় রীতিমতো ঘুরপাক খাচ্ছিল। হঠাত্ ভাবলাম খুব কম খরচে, অল্প সময়ে কিভাবে উপকূল জনগোষ্ঠীর মাঝে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া যায়।