রেস্টুরেন্টে প্রেমিকার সামনেই প্রেমিকের আত্মহত্যা: পুলিশ

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২১, ২২:১৯

রাজশাহী মহানগরীর লক্ষীপুর এলাকায় বুলবুল আহমেদ নামের ২৬ বছরের এক যুবক বুকে ছুরি চালিয়ে ও বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (০৯ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার ‘মাস্টারশেফ বাংলা রেস্তোরাঁ’য় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃতের প্রেমিকাসহ আরেক তরুণীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ এ তথ্য পেয়েছে।  রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মৃত বুলবুল আহমেদ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ নয়াপাড়া গ্রামের আমরুল ইসলাম ছেলে। সে পেশায় একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী ছিলেন। অন্যদিকে বুলবুলের প্রেমিকা তুলি খাতুনের (২০) বাড়ি একই উপজেলার তারাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুর রহিম। ঘটনার সময় তুলি ছাড়াও তার বান্ধবী জেমি আক্তার (২০) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জেমি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার জাহানপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। তারা দু’জনেই (তুলি এবং জেমি) রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

পুলিশ জানায়, বান্ধবী জেমি আক্তারের জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে মাস্টারসেফ রেস্তোরাঁয় যান বুলবুলের সাবেক প্রেমিকা তুলি। খবর পেয়ে বুলবুলও সেখানে যান। বুলবুল সেখানে গিয়ে তুলিকে বিয়ের কথা বললে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বুলবুল বিষপানের পর নিজেই নিজের বুকে ছুরি চালান। এ সময় অন্যদের সহযোগিতায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বুলবুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তুলির বান্ধবী জেমি জানিয়েছেন ‘বুলবুল আহমেদ অবিবাহিত ছিলেন। তার সাবেক প্রেমিকা তুলি বিবাহিত। তার সন্তানও আছে। এক সময় তুলির সঙ্গে বুলবুলের গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রেস্তোরাঁয় প্রথমে বুলবুল কীটনাশক পান করেন। এরপর নিজের বুকে নিজেই ছুরি বসান। এরপর তারা তাকে (বুলবুল) রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কী বিষয় নিয়ে তুলি ও বুলবুলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই জানায় নি জেমি। এদিকে এ বিষয়ে তুলি কোন কথা বলেননি।

ওসি বলেন, রেস্তোরাঁয় বুলবুল শাড়ি, থ্রি-পিস, লকেটসহ আরও কিছু উপহার নিয়ে যান। একটা ডায়েরি পাওয়া গেছে। ব্যাগে একটা চিরকুটও পাওয়া গেছে। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যেমন অক্সিজেন দরকার, তেমনি বুলবুলেরও বাঁচার জন্য তুলিকে দরকার-এ ধরনের কথা লেখা আছে চিরকুটে। এছাড়াও ঘটনার পর পুলিশ ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছে। ওই তিনজন রেস্তোরাঁয় বসে আছেন এমন ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। তবে সিসি ক্যামেরার কিছু অংশের ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনার সময়ের ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ক্যামেরার ডিভিআর জব্দ করেছে।

ওসি আরও বলেন, ‘এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। তবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিমানে এটা হতে পারে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঘটনার ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিহত বুলবুল আহমেদের বাবা কোনো মামলা করতে রাজি নয় নয় বলে জানান ওসি।’

এদিকে, মাস্টার শেফ বাংলা রেস্তোরাঁর মালিক এসএম শিহাব উদ্দিন জানান, তাদের সিসি ক্যামেরা সবসময় ঠিকঠাক মতো কাজ করে না। তাই সবকিছু ধারণ হয়নি। শিহাব জানান, ঘটনার সময় তিনি রেস্তোরাঁয় ছিলেন না। তবে কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই ধরনের কোন ঘটনা তারা দেখেননি। ওই তিনজন (বুলবুল, তুলি ও জেমি) খাবার পার্সেল নিয়েছেন। এরপর বুলবুল বিল পরিশোধ করে এবং তিন জনই রেস্তোরাঁ থেকে বের হয়ে গেছেন।

ইত্তেফাক/ ইআ