দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কুণ্ডা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় ব্রাহ্মণগাঁওয়ে হিন্দুদের রথখোলার মঠ ভেঙ্গে প্লট বানানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। যেই রথখোলায় একসময় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা পূজা করতেন সেটির মঠ ভেঙ্গে শুধু ব্যক্তিগত প্লট তৈরিতেই ক্ষান্ত হননি তিনি, প্লটে যাতায়াতের জন্য রথখোলার মাঝখানে রাস্তাও বানিয়েছেন। সেই রাসেল আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আবারও মেম্বার পদে প্রার্থী হয়েছেন। এনিয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ১৩ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) রাসেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘মেম্বার হয়ে রাসেল মিয়া সাধারণ মানুষের ভূমি জবরদখল করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাসেল মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এখন দৃশ্যত ১ হাজার ৪৬৫ শতাংশ জমির মালিক, যার সরকারি মূল্য ধরলেও দাঁড়ায় কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকা। এর বাইরে আরও সম্পদের মালিক হলেও এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আয়কর রিটার্নে মাত্র ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকার সম্পদের মালিক বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ তিনি ও তার ভাইয়েরা ৬টি ইটভাটা ও দুটি ডকইয়ার্ডের মালিক। পূবালী ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জের ধর্মপাশা শাখাসহ অন্তত ১৮টি ব্যাংকে রাসেলের হিসাবে রয়েছে বিপুল অর্থ।’
অভিযোগে আরও বলা হয়, হিন্দুদের জমি ছাড়াও সাধারণ মানুষের জমিজমা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করেছেন রাসেল। রাতের আঁধারে অন্যের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করেন, কখনও নিয়ে যান নিজেদের ইটভাটায়। এনিয়ে একবার পুলিশের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। হিন্দুদের জমিজমায় ফাঁক দেখলেই কৌশলে নিজেই মালিক হয়ে দখল করে নেন সেই জমি। জমি নিয়ে জটিলতা নিরসনে মেম্বার হিসেবে হিন্দুরা তার কাছে সালিশ নিয়ে গেলে তিনি নিজেই কৌশলে ঢুকে পড়ে জমির মালিক বনে যান।
এজন্য স্থানীয় ভূমি রেজিস্ট্রি কার্যালয়েও রয়েছে তার সিন্ডিকেট। রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনার আসামিও ছিলেন এই রাসেল। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগে রাসেলের বিরুদ্ধে গত ২৪ অক্টোবর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।
