বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অধ্যাপকের ৪২ পদে আছেন মাত্র ৪ জন

বরিশাল মেডিক্যাল কলেজে ৩০ বিভাগ শিক্ষকশূন্য

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৪০

ভয়ানক শিক্ষক সংকটে ভেঙে পড়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। একই কারণে ব্যাহত হচ্ছে সংলগ্ন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। এই মেডিকেল কলেজের ৭০টি বিভাগের ৩০টিতে দীর্ঘদিন ধরে কোন শিক্ষকই নেই। এখানে অধ্যাপকের ৪২টি পদের অনুমোদন থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৪ জন। ৩৮টি বিভাগে নেই বিভাগীয় প্রধান। এর বাইরে সহযোগী অধ্যাপকের ৫৬টি পদের ৪১টি, সহকারী অধ্যাপকের ১১১টি পদের ৬১টি, প্রভাষকের ৬৯টি পদের ৪৪টিই শূন্য রয়েছে। এছাড়াও মেডিকেল অফিসারের মোট ২৯০টি পদের মধ্যে ১৯০টি পদই শূন্য। কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, প্রতি মাসেই শিক্ষক সংকটের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে তাগাদা দেয়া হয়। কিন্তু শূন্য পদে নিয়োগ হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ২ বছর আগে চিকিৎসক সংকটে বন্ধ হয়ে যায় এখানকার বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ড। ঐ বিভাগের তৎকালীন চিকিৎসক ডা.এম এ আজাদের আকস্মিক মৃত্যু হলে বিভাগটির চিকিৎসা সেবা ও শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন দেড় বছর ধরে কলেজ ও হাসপাতালে অনুপস্থিত। অ্যান্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিক বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদ শূন্য। পাশাপাশি সহকারী অধ্যাপক পদের ডা. সৈয়দ আবদুল কাদের দেড় বছর ধরে অনুপস্থিত থাকায় ঐ বিভাগে আর কেউ বর্তমানে নেই। 

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্পাইন সার্জারি বিভাগের ডা. মো. মাহবুবুর মোর্শেদ প্রায় এক বছর আগে স্বেচ্ছায় অবসরের জন্য আবেদন করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ বরাবরে। তখন থেকে তিনি আর না আসায় এই বিভাগের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। 

ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক শূন্য। তার ওপর এই বিভাগের প্রভাষক ডা. মোসামাৎ দিলসাদ হোসেন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। ফলে ঐ বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, অধ্যাপকসহ সব পদ শূন্য রয়েছে যেসব বিভাগে, তার মধ্যে রয়েছে ভাইরোলজি, নিউরোলজি, জেনারেল/ক্লিনিক্যাল নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিক সার্জারি ও ট্রমাটোলজি, অর্থো প্লাস্ট, রক্ত পরিসঞ্চালন, নিউরো সার্জারি, শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি, রিউমাটোলজি, জেনারেল ইএনটি অটোলজি, রেনোলজি, হেডনেক সার্জারি, ইউরো গাইনোকোলজি, পেডিয়েটিক গ্যাস্ট্রোএন্টারলজি এন্ড নিউট্রিশন, রিপ্রোডাক্টিভ ক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফারটিলিটি, ফেটোমেটারনাল মেডিসিন, কলোরেকটাল সার্জারি, এন্ডোক্রাইনো সার্জারি, সার্জিক্যাল অনকোলজি, ক্যাজুয়ালটি, পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি এন্ড ডেভলপমেন্ট, চাইল্ড এন্ড অ্যাডোলসেন্ট সাইকিয়াট্রি, ডেন্টিস্ট্রি বিভাগ। এছাড়াও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক ছাড়া সকল পদ শূন্য, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগে প্রভাষক ব্যতীত সব পদ শূন্য। প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক শূন্য। মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক পদ শূন্য, সহযোগী অধ্যাপকের ৩টির মধ্যে ২টি শূন্য। ডার্মাটোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, ফিজিক্যাল মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, অর্থোপেডিক ও চক্ষু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ব্যতীত সব পদ শূন্য। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতনরা জানান, বিভাগীয় প্রধান না থাকায় অন্যদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কেননা করোনার শুরু থেকে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও ত্যাগ করার আঙ্গুলের ছাপের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে। অধ্যক্ষ’র কার্যালয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার ব্যবস্থা থাকলেও উপস্থিত, অনুপস্থিত বিষয়টি ততোটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। সূত্র মতে, সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান সভা করে সকলকে উপস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। হাজিরা খাতায় যে সব চিকিৎসক স্বাক্ষর করবেন না, তাদের বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানে থাকবেন। 

অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, প্রতি মাসেই শিক্ষক সংকটের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে তাগাদা দেয়া হয়। এছাড়া যারা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত, তাদের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সকলের উপস্থিতি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ ১৯ মাস ক্লাস বন্ধ ছিলো। এ সময়ে কয়েকজন শিক্ষক অবসরে গেছেন। ডিসেম্বরে আরও ২ জন অবসরে যাবেন। 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পেটে গজ রেখে সেলাই: চিকিৎসককে অব্যাহতি, ২ নার্সকে নোটিশ

শেবাচিমে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ, মেয়রের হস্তক্ষেপে শান্ত 

শেবাচিমের জরুরি বিভাগসহ সব গেটে তালা, ইন্টার্নদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি 

চট্টগ্রাম মেডিক্যালের মর্গে লাশ কাটা হয় দা দিয়ে!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ঠাকুরগাঁওয়ে ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা, আটক ১ 

হোমিও কলেজের প্রশ্নপত্র নিয়ে ক্ষমা চাইলেন অধ্যক্ষ, ফেসবুকে ভাইরাল

মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়েও দুশ্চিন্তায় মারুফা

মাধবপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ