দেবরকে যেভাবে চেয়ারম্যান বানালেন আওয়ামী লীগ নেত্রী

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২১, ১৮:৪৯

কক্সবাজারে রামু উপজেলায় জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে নৌকার প্রার্থী কামাল শামশুদ্দিন প্রিন্সকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঐ ইউনিয়নের মোটরসাইকেল প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবছার কামাল সিকদার।

শনিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে জোয়ারিয়ানালায় তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবছার কামাল সিকদার দাবি করেন, গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতির পর প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করে তার দেবর প্রিন্সকে জয়ী ঘোষণা করিয়েছেন।
 
আবছার কামাল সিকদারে অভিযোগ, ভোটের দিন ৬ কেন্দ্রের ফলাফল ভোট কেন্দ্রে ঘোষণা করা হয়। এতে তিনি নৌকার প্রার্থীর থেকে প্রায় আড়াই হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু তার ভোট ব্যাংক খ্যাত ৩টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা না করে ভোটের বাক্স রামু উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেসব কেন্দ্রের মেম্বার প্রার্থীদের ফলাফল সন্ধ্যা ৬টা-সাড়ে ৬টার দিকে ঘোষণা হলেও রাত ১০টার পর আমাকেসহ এজেন্টদের একটি কক্ষে বন্দী রেখে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি মনে করেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  নাজনীন সরওয়ার কাবেরী ভোট ডাকাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন আর ফলাফল পাল্টানোর ব্যবস্থা করেছেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রনয় চাকমা।

আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন সরওয়ার কাবেরী রামু সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও রামু উপজেলা চেয়ারম্যান ও  উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলের ছোট বোন। নৌকার প্রার্থী কামাল শামশুদিন প্রার্থী প্রিন্স আওয়ামী লীগ নেত্রী কাবেরীর দেবর।

এসময় তিনি ১,২ ও ৬ নং কেন্দ্রে ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানান। অভিযোগ অস্বীকার করে নাজনীন সরওয়ার কাবেরী বলেন, সবাই দেখেছে নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। এখন তিনি পরাজিত হওয়ার পর আমাকে এবং প্রশাসনকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। একইভাবে অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও প্রণয় চাকমা।

ইত্তেফাক/এসআই