আফগানিস্তানে বাল্য বিয়ের সংখ্যা বেড়েছে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২১, ১০:৫৬

গত ১৫ আগস্ট তালেবানরা কাবুল দখল করে নেয়ার পর থেকেই সমস্যা বাড়ছে আফগানিস্তানে। খাদ্য সমস্যা তো আছে পাশাপাশি নারীদের উপরও জারি হয়েছে নানা বিধিনিষেধ। যার ফলে আতঙ্কে রয়েছেন সেখানকার নারীরা। এর মধ্যে গত শনিবার ইউনিসেফের কার্যনির্বাহী নির্দেশক হেনরিয়েটা ফোর জানিয়েছেন, যু্দ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে যৌতুকের বিনিময়ে ভবিষ্যতে বিয়ের জন্য ২০ দিন বয়সী মেয়েশিশুদের বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আগেও ইউনিসেফের সহযোগীরা আফগানিস্তানের অকেলে হেরাত এবং বাগদীস এলাকায় ২০১৮ আর ২০১৯ এর মধ্যে ১৮৩টি বাল্য বিবাহ এবং শিশু বিক্রির মামলা নথীভূক্ত করেছে। এই শিশুদের বয়স ৬ মাস থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

হেনরিয়েটা বলেন, আমি এই খবরগুলোতে ভীষণ চিন্তিত যে, আফগানিস্তানে বাল্য বিয়ের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি, পরিবার পণের বদলে ভবিষ্যতে বিয়ের জন্য ২০ দিন বয়সী শিশুকন্যাকেও এগিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিকে করোনা মহামারী, চলতি খাদ্য সংকট তথা শীত শুরু হওয়া আরও গুরুতর করে তুলেছে। তার মতে, ২০২০-তে আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা এতটাই গরীব ছিল যে তাদের কাছে মৌলিক পুষ্টি বা পরিস্কার পানীয় পানির মতো সাধারণ জিনিসেরও অভাব ছিল।

হেনরিয়েটা বলেছেন, আফগানিস্তানে অত্যাধিক বিকট আর্থিক পরিস্থিতি পরিবারগুলিকে দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আর তাদের শিশুদের কাজে পাঠানো তথা কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার মতো বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বেশিরভাগ কিশোরী মেয়েদের এখনও স্কুলে যাওয়ার অনুমতি নেই, ফলে বাল্য বিবাহের প্রবণতা আরও বাড়ছে। শিক্ষা প্রায়শই বাল্য বিবাহ আর শিশু শ্রমের মতো নেতিবাচক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভাল সুরক্ষা হিসেবে গণ্য হয়।

ইত্তেফাক/এফএস